22/06/2024
ঘটনা এই বছর রমাদান মাসের ক'দিন আগের, মানে ফেব্রুয়ারী ২০২৪ এর। কম বেশি অনেক পরিবারই কোকাকোলা পান করে থাকে। আমার দোস্ত গ্রুপের দোস্তরাও কোকাকোলা স্প্রাইট কম বেশি পান করতো। কিন্তু বিশ্বজুড়ে বয়কটের ডাকের পর থেকে ঐ শিশু কিশোরাও চূড়ান্তভাবে বয়কট করেছে।
তো, আমার দোস্ত গ্রুপের ক'জনা একদিন নিজে থেকেই আমাকে জানায় যে, তারা ভালো জুস তৈরি করে বোতলে ভরে দোকানে দোকানে দেবে বিক্রির জন্য। এতে ওদের বিজনেসও হবে। কোকাকোলার বিরুদ্ধে এটা তাদের পক্ষ থেকে একটা প্রচেষ্টা। কাজটা হালাল হবে কিনা সেটা আমার কাছে জানতে চায়। জানতে চাইলাম কেনো তারা এমনটা করতে চায়? তারা জানায় যে, দোকানে দোকানে তখনও কোকাকোলা বিক্রি হয় - এটা ওদের ভালো লাগে না। তারা দেখেছে তখনও অনেকেই দোকান থেকে কোকাকোলা স্প্রাইট কেনে - এটা ওদের ভালো লাগে না।
আমি দেখলাম ওদের স্বপ্নটা অনেক বড়। ওদের মাথায় এমন একটা চিন্তা এসেছে - তাতেই আমি অবাক হয়েছি এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজটা শুরুর আগেই তারা জানতে চেয়েছে যে, কাজটা হালাল হবে কিনা! ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে কিছু পরামর্শ দেয়া ছাড়া ওদেরকে তেমন হেল্প করিনি। চেয়েছি ওরা নিজেরাই নিজেদের বু্দ্ধিতে কাজগুলি করুক, শিখুক, অভিজ্ঞতা নিক।
জানতে পারলাম ওরা প্রত্যেকে নিজেদের জমানো টাকা হতে কিছু টাকা একত্র কোরে বাজার থেকে লেবু, চিনি, দুধ, চকলেট কিনেছে। কয়েক ফ্লেভারের জুস বানাবে। তারা ভালো করে হাত ধুয়ে নিয়েছে এবং তারপর জুস বানিয়েছে। নিজেরাই অনলাইন থেকে জুসের বোতলের লেবেল বানিয়েছে। কিন্তু দোকানে দোকানে কিভাবে সাপ্লাই দেবে - সেটা বুঝতে পারছিলো না। আমি পরামর্শ দিলাম, যেহেতু প্রথম জুস বানিয়েছে, জুসটা কেমন হয়েছে সেটা পরীক্ষা করা দরকার। তো, প্রথমে যার যার মা-বাবা ভাই-বোন ও স্বজনদের নিকট পুশসেল করে তাদের মতামত নিক। ওরা সেটাই করলো। প্রথম ব্যাচে ওদের নাকি বেশ লাভ হয় (আফটার অল পুশসেল)। ওদের প্রত্যেকের চোখে মুখে আনন্দ!
লাভ হলে ভালো লাগে, আরো উৎসাহ জাগে। ওরা এবার সিদ্ধান্ত নেয় আরো টেস্টি করে বেশি পরিমানে জুস বানাবে এবং জুসের নাম দিলো ˹dosto cola˺. আমার মেয়েদের কাছে আবদার করে যেনো সুন্দর করে বোতলের লেবেল বানিয়ে দেয়। আমার মেয়েরা দ্রুত বানিয়েও দেয়। (ছবিতে দেখতে পারছেন)
কিন্তু লাভের টাকায় ২য় ব্যাচে জুস বানাতে গিয়ে বেশ কিছু জুস পড়ে যায় এবং বাকিটুকু বিক্রি শেষে কয়েকটি বোতলের হিসাবে মিলাতে পারেনি। মানে টোটালে তাদের লস হয়। কিন্তু আমি মনে করি, ওদের আসলে লস হয়নি বরং যেই অভিজ্ঞতাটা তারা নিজ থেকে অর্জন করলো সেটা প্রাইসলেস। ওদের কোথায় কোথায় মিস ম্যানেজমেন্ট ছিলো সেটা ওদের সাথে আলোচনা করার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলাম, ওরা নিজেরাই খুঁজে পেয়েছে তাদের ভুলগুলি। জুস পড়ে যেতে পারে, লেবুতে যথেষ্ট রস নাও থাকতে পারে, বোতল মিসিং হয়ে যেতে পারে - এগুলি ছিলো ওদের অভিজ্ঞতা।
একটি বিষয় ভালো লেগেছে যে, এই খুদে শিশু কিশোররা কোকাকোলা শুধু বয়কটই করেনি বরং তারা চেয়েছে নিজেদের একটা প্রোডাক্ট চালু করতে। এখন ওরা শিশু কিশোর, তাই হয়তো শিশু সুলভ একটা ঘটনা ওদের জীবনে ঘটে গেলো। তবে আমি মনে করি, এই স্পৃহাটা মরে যাবে না। ওদের ভেতরে এই স্পৃহাটা থেকে যাবে এবং যথা সময়ে সেটা ˹উত্তমভাবে˺ প্রকাশও পাবে ইন শা আল্লাহ।
উস্তাদ