17/04/2021
তেলকুপি অভিযান
আমরা PAF Resorts, Puruliar কর্ণধার রা হটাত বেরিয়ে পড়লাম আবার । করোনা আবহে গেস্ট নেই তেমন । কি করা যায় , কি করা যায় , না করে ফেলি একটা নতুন জায়গা এক্সপ্লোর , ঘরে বসে থেকে কি করব আর কি? যাকে বলে কাজ নেই তো খই ভাজ আর কি। কোথায় যাওয়া যায়? পুরুলিয়ার মতো রুখাসুখা জেলাতে প্রকৃতি যেখানে সর্বশ্য দিয়েছে, সেখানে জায়গার অভাব। মুস্কিল আসান হলেন আমাদের প্রধান কর্নধার, শ্রী সঞ্জয় কুমার মাহাত, যিনি আবার দাদাগিরি খ্যাত পুরুলিয়ার দাদা , বললেণ তেলকুপি গ্রামে ও তার আশে পাশে তিনটি দেউল আছে , মাঝখানের দেউলটি জলে সম্পুর্ন নিমজ্জিত, শুধু বৈশাখ আর জ্যোষঠ মাসে দেখা যায় । তাহলে আর কি সারথি উপেন দা কে নিয়ে আমাদের স্করপিও নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম তিনমুর্তি দুপুর ২ টো নাগাদ । সঙ্গে রইলেন আমাদের চলতি ফিরতি ডেটা ব্যাঙ্ক শ্রী বিশ্ব প্রকাশ মাহাত । আমি বললাম “ দাদা, একটু যদি তেলকুপি নিয়ে কিছু বল “।শ্রী বিশ্ব প্রকাশ মাহাত, পেশাতে এঞ্জিনিয়ার, পুরুলিয়ার ইতিহাস নখদরপানে, শুরু করলেন-
দেখ, আমাদের পুরুলিয়াতে বহু সুন্দর জায়গা আছে, আমরা জানিই না । আজ আমরা যাচ্ছি স্বর্গ পুরী বা দেবভূমি ।বনবাসী ভাই বা আদিবাসি (সাঁওতাল ) দের বিশ্বাস এখানে তাদের দেবতারা বিরাজ করতেন।সাঁওতাল দের পবিত্র নদ , দামোদরের ধারে এই মন্দির গুলি। এখানে মোট ২২ টি মন্দির ছিল । ১৮৭২ সালে জে ডি বেগলার দেখতে পান ১৩ টি মন্দির, বাকি ৯ টি ধংসপ্রাপ্ত কালের গ্রাসে, তারপর ১৯০২ সালে ব্লক ও প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ডেভিড মাকাচ্ছানে দেখেছিলেন ১০ টি। তারপর ১৯৫৬ সালে দামোদর নদে পাঞ্ছেত জলাধার নির্মাণের পর বাকিগুলি কালের গর্ভে বা জলের গর্ভে। শুধু তিনটি অবশিষ্ট। এই দেউলগুলি সারা পুর্ব ভারতে খ্যাতি লাভ করেছিল। তৈলকম্প বা তেলকুপি ছিল সেকালের এক বিখ্যাত বন্দর নগরী ।কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে লিখিত আছে তৈল একরকমের কর এবং কম্প শব্দটির উৎপত্তি কম্পন থেকে যার অর্থ পরগনা । আজকের তেলকুপি ছিল অতীতের কর প্রদানকারী সামন্ত রাজ্য। ঐতিহাসিক সন্ধ্যাকর নন্দীর “ রামচরিত” কাব্যে এই রাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় । সেই সময়ে তৈলকম্প তামার ব্যাবসায়ে খুব উন্নতি করেছিল ।ব্যাবসায়িরা মুলত ছিল জৈন ধর্মালম্বি।
কথা হতে হতে আমরা পৌছে গেলাম রঘুনাথপুর, প্রসঙ্গত উল্যেখ্য আমাদের সারথি উপেন দা বলে দিয়েছেন, পুরুলিয়া থেকে রঘুনাথপুর ৪৭ কিমি আর রঘুনাথপুর থেকে তেলকুপি আরো ২০ কিমি। রাঘুনাথপুর ২ নং ব্লকে, পাঞ্ছেত জলাধারের উত্তরে তেলকুপি।
পৌছালাম তেলকুপি , আমাদের কারো মুখে কোন কথা নেই, ঝড় বইতে শুরু করেছে, আর গরম নেই, ঝড় থেমেও গেলো একটু পরে যেন দেবতারা আমাদের অভ্যার্থনা করলেন দেবভুমিতে। বিস্তির্ন দামোদরের সবুজ চর, আর নীল আকাষ, মাঝে দামোদরের খাড়ী , আর জেগে থাকা বিগ্রহহীন দেউল । দুটো দেউল দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আরেকটা তো দেখতে পাচ্ছি না, কাকে জিগ্যেস করি? আর দাদা বলল আমি ভাবছি চরিত্রহীন সুটীং টা কোথায় হোয়েছিলো? জলে জেলেভাইদের জাল। কাছাকাছি আছে নিশ্চয় কেউ স্থানীয় । বলতে বলতে মুস্কিল আসান, যে জেলে ও মাঝীভাই যিনি শুটিং দলের সঙ্গে ছিলেন। নাম ভোলানাথ ৺গরাইন , পরিচয় সুত্রে বেরল যে ডাবর গ্রামে আমাদের রিসোর্ট সেই গ্রামে উনি গেছেন ও ওনার আত্মিয় আছে আমাদের গ্রামে। ব্যাস কুটুম আর কি। দেখিয়েদিলেন সেই শুটিং দেউল, বললেন চলুন নিয়ে যাই নৌকা করে ভৈরবনাথ মন্দির। জলের ভেতরে আছে। আমরা ধরেই নিলাম এতা সেই তিন নং। খাঁড়ি পেরিয়ে দামোদর আর তারপর প্রায় ৭০০ মিটার হেঁটে সেই তিন নং এ যখন পৌছালাম তখন আমরা বাকরুদ্ধ। হাজার বৎসরের ইতিহাস জলে নিমজ্জিত। অপরুপ সৌন্দার্যেন মন থেকে উঠে আসে “ স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা......... আমার এই দেশেতেই জন্ম , যেন এই দেশেতেই মরি”।
পুরুলিয়ার ইতিহাস জানতে আমরা স্পেশাল ট্যুর অপারেট করছি , কথা দিচ্ছি খারাপ লাগবে না..
বিশ্বাস আপনাদের , ভরসা আমাদের...
যোগাযোগ: +91 96743 58484, +91 76029 65959