11/04/2026
#বৈসাবি_উৎসব বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এটি মূলত তিনটি জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের সমন্বিত রূপ—
“বৈ” → বৈসু (ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী)
“সা” → সাংগ্রাই (মারমা জনগোষ্ঠী)
“বি” → বিজু (চাকমা জনগোষ্ঠী)
এই তিনটি মিলেই “বৈসাবি” নামটি এসেছে।
কখন পালিত হয়?
প্রতি বছর এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি (সাধারণত ১৩–১৫ এপ্রিল), বাংলা নববর্ষের সময়।
🎉 কীভাবে উদযাপন করা হয়?
বৈসাবি উৎসব সাধারণত ৩ দিন ধরে উদযাপন করা হয়। এই ৩টি দিন হলো—
১️⃣ ফুল বিজু (প্রথম দিন)
🌼 ফুল ভাসানো: নদী বা পানিতে ফুল ভাসিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো
💧 পানি খেলা: একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ করা (থাইল্যান্ডের Songkran-এর মতো)
এই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা হয়।
প্রকৃতি ও জীবজন্তুর প্রতি সম্মান জানানো হয়
সবাই নতুন বছরের প্রস্তুতি নেয়।
২️⃣ মূল বিজু (দ্বিতীয় দিন)
সবচেয়ে আনন্দের দিন 🎉
🍲 ঐতিহ্যবাহী খাবার: বিশেষ করে “পাজন” নামের মিশ্র সবজি রান্না
🎶 নাচ-গান: ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য ও গান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো হয়
#নববর্ষ (তৃতীয় দিন)
এই দিনটি নতুন বছরের প্রথম দিন বয়োজ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ নেওয়া হয়। মন্দিরে গিয়ে পূজা করা হয়।
নতুনভাবে জীবন শুরু করার সংকল্প নেওয়া হয়।
🌿 গুরুত্ব
নতুন বছরের সূচনা।
পুরনো দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন জীবন শুরু।
পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক।
📍 কোথায় বেশি জনপ্রিয়?
বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি।
পরিশেষে বলা যায়-
'বৈসাবি' শুধু একটি উৎসব নয় এটি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের এমন একটি উৎসব যা তাদের সংস্কৃতি,ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক।