12/10/2023
একই দিনে দুই দলের প্রায় একই পরিমাণ রান চেজ করতে দেখলাম দুটো দলকে।
বাংলাদেশ ৩৬৫ রান চেজ করতে গিয়ে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে, পাকিস্তান ৩৪৫ চেজ করতে গিয়ে জিতেছে।
মোস্ট ইম্পর্ট্যান্টলি, বাংলাদেশের চেজিং ইনিংসের একটা ফেজেও মনে হয়নি বাংলাদেশ এই ম্যাচটা জিততে পারবে বা টার্গেটের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে।
গিভ আপ এপ্রোচ যাকে বলে, শুরু থেকেই সেম এপ্রোচ ছিলো বাংলাদেশের।
এবার পাকিস্তানের ইনিংস লক্ষ্য করেন, ৩৭ রানে দলের দুইটা নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান আউট। বিশেষ করে ক্যাপ্টেন বাবর আউট হওয়াতে পাকিস্তানের জেতার চান্স তখন খুবই ক্ষীণ।
ক্রিজে তখন কেবল ওয়ার্ল্ডকাপে ডেব্যু হওয়া আব্দুল্লাহ শফিক আর রিজওয়ান।
আমি এদের পুরো ইনিংসটা দেখেছি। আমার দেখা অন্যতম সেরা ব্যাটিং ডিসপ্লে, তারা দুজন ১৭৬ রানের পার্টনারশিপে যেভাবে খেলাটাকে কন্ট্রোল করেছে আর বিল্ড করেছে, জাস্ট চোখে লাগার মত। ঠিক এই জায়গাতেই বড় দল আর আমাদের পার্থক্য।
আব্দুল্লাহ-রিজওয়ান পার্টনারশিপে আপনি ৬০ টা ডট বলও পাবেন না, রিস্ক-ফ্রি বাউন্ডারির সাথে সিঙ্গেলস, ডাবলস, এগুলো ফ্লুয়েন্টলি আসছিলো।
সাথে প্রতি ওভারে একটা করে বাউন্ডারি।
অর্থাৎ পার্ফেক্ট ক্রিকেট ম্যাচ-আপ।
সময় মত ৩-৪ ওভার মেরে রানরেট কমিয়ে নিয়েছে।
এদিকে আমাদের সাকিব, মুশফিক, হৃদয় এরা সবাই এসে ক্রিজে মাত্রাতিরিক্ত ডট খেলেছে, নো ইন্টেনশন অ্যাট অল।
আরেকটা কথা না বললেই নয়, আমাদের প্লেয়ারদের স্কিল, টেকনিক অন্যদের চেয়ে অনেক অনেক কম।
আব্দুল্লাহ শফিক পাকিস্তান দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে, আজকেও ফখরের জায়গায় খেলসে।
আজ সে উইকেটের চারিদিকে দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলেছে। সেদিন নিউজিল্যান্ডের রাচিন রভীন্দ্রও অনেক ক্লাসি একটা ইনিংস খেলসে।
রিজওয়ান সম্পর্কে কিছু বলার ভাষা নেই, সে একটা রোবোটিক মেশিন। এই গরমে টানা ৫০ ওভার কিপিং করে এসে এমন প্রেশার সিচ্যুয়েশনে ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলা, বিন্দুমাত্র ক্লান্তিকে পাত্তা দিচ্ছেনা!
আমাদের তানজিদ তামিমের ফুটওয়ার্কই এখনো ঠিক নাই, আজকে টপলে যে চ্যানেলে বল করে ওকে আউট করলো, সেম একই চ্যানেলে ১০ টা বল দিয়ে ওকে ৭ বার আউট করা যাবে। এগুলো হচ্ছে টেকনিকের সুস্পষ্ট ঘাটতি।
আমাদের ঘরোয়া প্লেয়ারদের ন্যাশনাল টিমে এনে খেলা শেখাতে হয়!
৩৭/২ থেকে হারতে যাওয়া একটা ম্যাচ পাকিস্তান বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড চেজ ৩৪৫ রান চেজ করে জিতলো প্রায় ২ ওভার হাতে রেখেই!
যাইহোক, আজকে পাকিস্তানের ইনিংসটা হতে পারে বাংলাদেশের প্লেয়ারদের জন্য বড় একটা লেসন, কিভাবে বড় চেজ করতে হয়, কিভাবে ক্যালকুলেটিভ ক্রিকেট খেলে ম্যাচ আগায় নিতে হয়।
আর যদি এরা ওই সম্মানজনক হারের জন্যই খেলতে থাকে, তাইলে আর এদের দিয়ে আশা করে লাভ নাই।
লেভেল ওই আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে আর আফগানিস্তান পর্যন্ত।
এরকম বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার দিয়ে আমরা কি করব যদি প্রয়োজনে সার্ভিস ই পাওয়া না যায়?