16/03/2026
কক্সবাজারের বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এতে সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা পাবে—যা দীর্ঘমেয়াদে পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সিদ্ধান্তের আরেকটি বাস্তবতাও আছে—অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই জীবিকা হারিয়েছেন।
এখানেই প্রয়োজন পরিকল্পিত চিন্তা ও দূরদর্শী ব্যবস্থাপনার। বালিয়াড়ির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে এটিকে পর্যটনবান্ধবভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। সরকার চাইলে নির্দিষ্ট ডিজাইন ও নীতিমালার আওতায় পরিবেশবান্ধব Beach Kiosk, Eco-Cafe, Handicraft Corner, Local Food Zone তৈরি করতে পারে। এসব স্থাপনা হবে নান্দনিক ও সীমিত কাঠামোর—যা বালিয়াড়ির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট করবে না, আবার পর্যটকদের জন্য একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল অভিজ্ঞতাও তৈরি করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই নতুন ব্যবস্থায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন পেতে পারেন ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে একদিকে আধুনিক ও শৃঙ্খলিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, অন্যদিকে মানুষের জীবিকাও রক্ষা পাবে।
ব্যবসার প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণের সুবাদে বিশ্বের অনেক বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত দেখার সুযোগ হয়েছে—মালাগা বিচ (স্পেন), বালি (ইন্দোনেশিয়া), মিয়ামি বিচ (ফ্লোরিডা), জুহু বিচ (ভারত), রেড বিচ (স্যান্টোরিনি), ব্যাংককের কয়েকটি বিচসহ আরও অনেক জায়গা…প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনার দিক থেকে কক্সবাজারই সেরা । দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শুধুমাত্র সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে আমরা এর পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছি না।
শৈশবের একটি স্মৃতি এখনো মনে পড়ে—আশির দশকে আমার নানাবাড়ির সামনের (পুরনো সায়মন ও রাচি হোটেল ) রাস্তা দিয়ে প্রায়ই বিদেশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যেতে দেখতাম। অথচ আজ কক্সবাজারের মতো সম্ভাবনাময় সৈকতে বিদেশি পর্যটক আসে না বললেই চলে। এটি আমাদের জন্য ভাবনার বিষয়।
কক্সবাজার শুধু একটি সৈকত নয়—এটি বাংলাদেশের পর্যটনের মুখ। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত পরিবেশ সংরক্ষণ, নান্দনিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা।
পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে বালিয়াড়ি হয়ে উঠতে পারে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও টেকসই পর্যটন স্পট—যেখানে প্রকৃতি থাকবে অক্ষত, আর মানুষের মুখেও থাকবে হাসি।