16/07/2026
শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সততার পক্ষে আমাদের সুদৃঢ় অবস্থান: মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন।
সম্প্রতি কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ কে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে ও রাস্তায় যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা, আমরা শিক্ষক সমাজ তার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আজ যেসব কারণে তথাকথিত ক্ষোভ উগরে দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো আসলে কোনো অপরাধ নয়; বরং জরাজীর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও ইতিবাচক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ:
১. নকল ও অসদুপায়ের চিরতরে অবসান: পরীক্ষার হলে দেখে দেখে লেখা কিংবা অনৈতিক উপায়ে পাস করার পুরনো সংস্কৃতি কঠোর হস্তে রোধ করা হয়েছে।
২. অটোপাসের সস্তা প্রবণতা দূরীকরণ: কোনো পরীক্ষা না দিয়ে বা নামমাত্র মূল্যায়নে 'অটোপাস' নিয়ে সার্টিফিকেট অর্জনের আত্মঘাতী প্রবণতা চিরতরে বন্ধ করা হয়েছে।
৩. প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কঠোর নজরদারি: প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উত্তর সরবরাহ বা নকলের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করা হয়েছে।
৪. প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া: বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কালো হাত ও অনৈতিক চক্রকে গুঁড়িয়ে দিতে ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যদি এই সততা, স্বচ্ছতা এবং কঠোর শৃঙ্খলার কারণেই কেউ সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে তাণ্ডব চালায়, তবে তা পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়।
অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ধারাবাহিকতা এবং বর্তমানের বাস্তবতা:
আমরা ভুলে যাইনি, ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন মহোদয় পূর্বে যখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তখন নকল রোধে তিনি যে যুগান্তকারী ও অমর কীর্তি স্থাপন করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। আজ তাঁরই নেতৃত্বে আবারও যখন শিক্ষার মান ফেরানোর লড়াই চলছে, তখন কতিপয় অসাধু চক্র সুযোগ সুবিধা না পেয়ে কেন্দ্র ভাঙচুর করছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী ও কঠোর সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
অনেকে না বুঝেই বর্তমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কিছু ত্রুটি নিয়ে ঢালাও সমালোচনা করছেন। তাদের জানা উচিত, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অন্তত ৬ মাস আগে (গত নভেম্বর মাসে) তৈরি ও চূড়ান্ত করা হয়। অথচ বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের বয়স মাত্র চার মাস! অর্থাৎ, এই প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সাথে তাঁর দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সুতরাং, পূর্ববর্তী সিস্টেমের ভেতরের কোনো ভুলের দায় এই ক্ষণজন্মা নেতার ওপর চাপানো স্রেফ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপপ্রচার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের আকুল আবেদন:
মাত্র ৪-৫ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে কোনো মানুষের পূর্ণ কর্মদক্ষতা বা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার আমূল পরিবর্তন মূল্যায়ন করা অসম্ভব। তা সত্ত্বেও, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর সততা, সাহসিকতা ও যোগ্যতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক, নকলমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার এই চলমান ধারা বজায় রাখতে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা আজ সময়ের দাবি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন জানাই—শিক্ষা ব্যবস্থার এই বৈপ্লবিক সংস্কারকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে তাঁর স্বপদে বহাল রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ করে দেওয়া হোক।
আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব, স্বচ্ছ, আইসিটি-নির্ভর ও মেধাভিত্তিক এক আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে আছি এবং আমৃত্যু থাকব।
নিবেদক,
অষ্টম এনটিআরসিএ পরীক্ষার ভাইভা প্রত্যাশী শিক্ষক সমাজ।