06/07/2026
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কক্সবাজার-টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুট। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর কক্সবাজারে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ পর্যটক আসেন, যার মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ পর্যটক টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেন। বর্তমানে কক্সবাজারে পাঁচ তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানের প্রায় ৫০০টিরও বেশি হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে, যার দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যটক। নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের পিক-সিজনে এখানকার অকুপেন্সি রেট (রুম বুকিংয়ের হার) প্রায় ৯০% থেকে ৯৫% এ পৌঁছায় এবং উইকএন্ডগুলোতে এটি প্রায় ১০০% হয়ে যায়, যা এই অঞ্চলে রিসোর্ট ব্যবসার বিশাল বাজার ও চাহিদাকেই প্রমাণ করে।
এই রুটে একটি সফল রিসোর্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে হলে কৌশলগত লোকেশন ও ইকো-ফ্রেন্ডলি কনসেপ্টের ওপর জোর দিতে হবে। কক্সবাজারের কলাতলী বা সুগন্ধা পয়েন্টে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকায় বর্তমান সফল উদ্যোক্তারা মেরিন ড্রাইভ, ইনানী এবং টেকনাফের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে জমির লিজ বা ক্রয়মূল্য তুলনামূলক কম কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশি। সেন্টমার্টিনে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে কঠোর আইনি কড়াকড়ি থাকায় সেখানে বাঁশ, কাঠ ও ছনের তৈরি 'ইকো-রিসোর্ট' সবচেয়ে সফল মডেল। পর্যটকদের আধুনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে রিসোর্টে নিরবচ্ছিন্ন হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই, পাওয়ার ব্যাকআপ এবং স্থানীয় ও সি-ফুডের লাইভ কিচেন সুবিধা রাখলে তা প্রতিযোগিতায় অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকে।
ব্যবসায়িক ডাটা ও ফিন্যান্সিয়াল মডেল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলে একটি মানসম্মত মাঝারি (২০-৩০ রুমের) ইকো-রিসোর্ট স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগের পর বার্ষিক রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট (ROI) প্রায় ১৮% থেকে ২৫% পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে মূল বিনিয়োগ তুলে আনা সম্ভব (Payback Period)। তবে সিজনাল ব্যবসার ফাঁদ এড়াতে অফ-সিজনে (এপ্রিল-অক্টোবর) ৬০% পর্যন্ত আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট, কর্পোরেট এজিএম (AGM) প্যাকেজ এবং ডে-ট্যুর অফার দিয়ে রিসোর্টের অন্তত ৩০%-৪০% অকুপেন্সি ধরে রাখা যায়। এছাড়া বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ৭০% গ্রাহকই এখন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেন, তাই ডিজিটাল ব্র্যান্ডিংয়ে বিনিয়োগ করা বাধ্যতামূলক।
পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ক্ষতি না করে টেকসই পর্যটন বা সাসটেইনেবল ট্যুরিজম নিশ্চিত করাই এই ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের চাবিকাঠি। সঠিক বাজার গবেষণা, দক্ষ হোটেল ম্যানেজমেন্ট স্টাফ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয় ঘটাতে পারলে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের এই ট্যুরিজম করিডোর যেকোনো নতুন উদ্যোক্তার জন্য একটি অত্যন্ত লাভজনক বিনিয়োগের ক্ষেত্র হতে পারে।
এই বাণিজ্যিক ডাটা ও সম্ভাবনা দেখার পর, আপনি যদি রিসোর্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, তবে বিলাসবহুল প্রিমিয়াম রিসোর্ট নাকি পরিবেশবান্ধব ইকো-রিসোর্ট—কোনটি দিয়ে শুরু করতে চাইবেন?