28/07/2026
আজকে আমি আপনাদের সামনে সেন্টমার্টিন দ্বীপের একটি কষ্টের গল্প তুলে ধরতে চাই।
যদি সময় থাকে, অনুরোধ করব পুরো দেখবেন। আর শেষে আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।
আসসালামু আলাইকুম।
প্রিয় দেশবাসী, আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন।
আজ আমি কোনো রাজনৈতিক কথা বলতে আসিনি, কাউকে ছোট করতেও আসিনি। আমি শুধু আমার জন্মভূমির কষ্টের কথা বলতে এসেছি।
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন—যে দ্বীপকে আমরা গর্ব করে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিই। অথচ এই দ্বীপের মানুষের বুকের ভেতরের কান্না খুব কম মানুষই শোনে।
এখানে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের বসবাস। কেউ একটু স্বচ্ছল, কেউ কোনোমতে সংসার চালায়, আবার অসংখ্য পরিবার প্রতিদিন অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে।
আর এই অভাবই একদিন মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।
যখন একজন স্থানীয় মানুষ মাসে ১০–২০ হাজার টাকার চাকরির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন তিনি অনেক অন্যায় দেখেও চুপ থাকেন। কারণ তিনি জানেন—আজ যদি সত্য কথা বলেন, কাল হয়তো তাঁর পরিবারের খাবার জুটবে না।
অন্যদিকে, অনেক বাইরের ব্যবসায়ী মাত্র দুই মাসের মৌসুমে কোটি কোটি টাকা আয় করে চলে যান। ব্যবসা করতেই পারেন, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যদি সেই ব্যবসার জন্য কেয়াবন কেটে ফেলা হয়, সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়, বা পরিবেশের ক্ষতি করা হয়—তাহলে ক্ষতিটা শুধু সেন্টমার্টিনের নয়, পুরো বাংলাদেশের।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে তখন, যখন নিজের মানুষগুলোও নীরব হয়ে যায়। অভাবের কারণে, চাকরির ভয়ে, কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ কেউ সত্য কথা বলতে পারেন না।
মনে রাখবেন...
টাকা জীবনে অনেক দরকার। কিন্তু এমন কোনো টাকা দরকার নেই, যার বিনিময়ে নিজের জন্মভূমির অস্তিত্ব হারিয়ে যায়।
আজ যদি আমরা নীরব থাকি, তাহলে হয়তো একদিন আমাদের সন্তানেরা বইয়ের পাতায় পড়বে—বাংলাদেশে এক সময় একটি সুন্দর প্রবালদ্বীপ ছিল, যার নাম ছিল সেন্টমার্টিন।
আমি সেই দিনটি দেখতে চাই না।
তাই সবার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—আপনারা যদি কখনো দেখেন কেয়াবন কাটা হচ্ছে, সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে, কিংবা পরিবেশ ধ্বংসের মতো কোনো কাজ হচ্ছে, তাহলে দয়া করে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানান। প্রয়োজনে আমাদেরও তথ্য দিন। আমরা আইনগত ও সচেতনতার মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
সেন্টমার্টিন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এটি বাংলাদেশের সম্পদ, আমাদের সবার আমানত।
আসুন, টাকার জন্য নয়—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেন্টমার্টিনকে বাঁচাই।
কারণ, একটি দ্বীপ ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগে না। কিন্তু একটি দ্বীপ সৃষ্টি করতে প্রকৃতির লাগে হাজার হাজার বছর।
📍 সেন্টমার্টিন দক্ষিণ পাড়া