Bijoypur Shopnopuri Resort

Bijoypur Shopnopuri Resort Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bijoypur Shopnopuri Resort, Hotel resort, Boheratoli, Bijoypur, Durgapur, Netrokona, Mymensingh.

Bijoypur Shopnopuri Resort is a beauty amidst nature which is located over a small hill which is just beside all the main attractions of Bijoypur-Durgapur with all the modern amenities and facilities required for a luxury stay. প্রকৃতি চাপ মুক্ত করে আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। এটা বলা হয় যে আমাদের প্রতি বছর একটি নতুন জায়গা পরিদর্শন করা উচিত। যাইহোক, আপনি যখন সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করেন তখন বিলাসবহ

ুল ভ্রমণের পরিকল্পনা করা সম্ভব নাও হতে পারে। আপনি যদি গোলাপী পাহাড়, নীল জলের পুকুর এবং একটি স্রোতস্বীনি নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য অনুভব করতে চান তবে এক দিনের বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, দুর্গাপুরে যান। এই নয়নাভিরাম স্থানটি বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে অবস্থিত। নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের স্মারক স্পর্শ ধারণ করে। বাংলাদেশের অন্যান্য পর্যটন স্পটের মতো প্রচার না হলেও, দুর্গাপুর বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর স্থান।
দুর্গাপুর বহুমুখী টপোগ্রাফিতে সমৃদ্ধ। দুর্গাপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলির মধ্যে রয়েছে সোমেশ্বরী নদী, সাদামাটির পাহাড়, নীল পানির লেক, রানিখং চার্চ, হাজং মাতা রাশিমনি মনুমেন্ট, কালচারাল একাডেমি ,মহারাজা সুসঙ্গের প্রাসাদ, হাজং জনগোষ্ঠীর আদিবাসী সম্প্রদায়, গারো গ্রাম, দশা ভূজা মন্দির, রামকৃষ্ণ মন্দির, বিজয়পুর বর্ডার, অরেঞ্জ ফরেস্ট, কংশ নদী, গজারি ফরেস্ট ইত্যাদি এই জায়গাগুলো সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ বিবরণ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

দুর্গাপুরের মাটিতে পা রাখলেই সোমেশ্বরী নদীর মোহনীয় সৌন্দর্য আপনার মন কেড়ে নেবে। উল্লেখ করার মতো নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম অত্যাশ্চর্য নদী। ভারতের মেঘালয়ে গারো-খাসি রেঞ্জের অন্তর্গত গারো পাহাড় থেকে উৎপন্ন এই পাহাড়ি নদীটি বিজয়পুর সীমান্ত, নেত্রকোনা দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। দুর্গাপুরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখতে নৌকায় করে সোমেশ্বরী নদী পার হতে হয়। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই মায়াবী নদী সোমেশ্বরী এই প্রাকৃতিক দৃশ্যে পরিবর্তন আনে। বর্ষার বৃষ্টি এই নদীকে অশান্ত করে তোলে কিন্তু এর সৌন্দর্য পূর্ণতা দেয়। মেঘালয় পাহাড়ের পটভূমিতে অবস্থিত এই নদীটির আলোকিত সৌন্দর্য আপনার মনে চিরকাল থাকবে। তবে শীতকালে পানি প্রায় শুকিয়ে যায়!

সাদামাটির পাহাড় এলাকা দুর্গাপুরের আরেকটি অবিস্মরণীয় প্রাকৃতিক সম্পদ। বিভিন্ন জায়গায় আপনি চায়না ক্লে মাটি দিয়ে তৈরি পাহাড় দেখতে পাবেন। দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের সিরামিক হিলস সারা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য খ্যাতি অর্জন করেছে। কুল্লাগড়া ইউনিয়নের লাইমস্টোন লেকের আশেপাশেও এই মাটির টিলা পাওয়া যায়। এই পাহাড়গুলো চায়না মাটির পাহাড় বা চায়না ক্লে হিলস নামেও পরিচিত। এই পাহাড়গুলিকে সাধারণ পাহাড় থেকে আলাদা করে তুলেছে তাদের আশ্চর্যজনক গোলাপী রঙের মাটি। এই একচেটিয়া চেহারার পিছনে রহস্য হল মাটির বিশেষ রাসায়নিক গঠন। 1960 সাল থেকে, সিরামিক কোম্পানিগুলি সিরামিক বস্তু এবং ক্রোকারিজের উপাদান সংগ্রহের জন্য বিরিশিরিতে খনন করছিল। আপনার ভ্রমণে কিছু রোমাঞ্চ যোগ করতে আপনি এই সিরামিক পাহাড়গুলিকে হাইক করতে পারেন। আর কি আছে? বর্ষাকালে এসব পাহাড়ের উপত্যকায় নীল জল জমে থাকে পুরো পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলে রোমান্স।

বিজয়পুর অরেঞ্জ গার্ডেন এই এলাকার একটি বহুল পরিচিত পর্যটন পাহাড় স্পট, যেখানে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্য এবং মৌসুমে কমলা গাছ রয়েছে। এটিতে একটি ওয়াচ টাওয়ারও রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, নান্দনিক এবং চোখ ধাঁধানো দৃশ্য এখানে দেখা যায় যেখানে অনেক পর্যটক এই স্পট পরিদর্শন করেন। এর আশেপাশে দোকান রয়েছে যেখানে ভারতীয় পণ্য বিক্রি হয়।

গোলাপী পাহাড়ের পটভূমিতে একটি সুরম্য নীল জলের পুকুরের পাশে কিছু শান্ত মুহূর্ত কাটাতে চান? কুল্লাগড়া ইউনিয়নে ' নীল পানির লেক' নামে এমন একটি স্বর্গীয় স্থান দেখতে পাবেন। এই ঐশ্বরিক নীল জলের হৃদয়-ছোঁয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার আত্মাকে প্রশান্ত করে তুলবে আপনাকে ব্যস্ত শহরের জীবনের কোলাহল থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। এই হ্রদটি নীল পুকুর, চায়না মাটির হ্রদ, চায়না ক্লে লেক ইত্যাদি নামেও পরিচিত। এর একচেটিয়া নীল জলের পিছনের রহস্য হল মাটিতে রাসায়নিক যৌগ বিশেষ করে কপার সালফেটের উপস্থিতি। যাইহোক, এই পুকুরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জলে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এই চুনাপাথর হ্রদটি মোটামুটি গভীর, তাই সাঁতার কাটার জন্য যে কোনও প্রচেষ্টা আপনার জীবন বিপন্ন করতে পারে।

দুর্গাপুরে আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময়, বিজয়পুর নেত্রকোনায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বিজিবি ক্যাম্প মিস করবেন না। এই জায়গা থেকে, আপনি ভারতের মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়ের মন-ফুঁকানো মেঘ-আলিঙ্গন উপভোগ করতে পারেন। উল্লেখ করার মতো নয়, এখানে আপনি পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই বিদেশে যাওয়ার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন। সোমেশ্বরী নদীর পাশে বিজিবি ক্যাম্প থাকায় আশেপাশের জায়গা দেখার জন্য আপনি নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন।
চারুয়াপাড়া থেকে কলমাকান্দা পর্যন্ত সীমান্ত সড়ক দিয়ে বোর্ডার ড্রাইভে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন ।
বিজয়পুর বিডিআর ক্যাম্পের দিকে যাত্রার সময় আপনি হাজং রাশিমনি স্মৃতিসৌধ দেখতে পাবেন যা হাজং রোশিমনির সাহসী আত্মত্যাগের স্মরণে নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় জমিদার এই এলাকার সব জমির মালিক ছিলেন। দরিদ্র কৃষকদের জমি চাষ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তাদের ফলন দিতে বাধ্য করা হয়েছিল যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে প্রতিবন্ধী করে তুলেছিল। ১৯৩৮ সালে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের জাতিগত কৃষকরা রাশিমনির নেতৃত্বে টঙ্ক আন্দোলন নামে একটি সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৪৬ সালে স্বৈরশাসকের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন রাশিমনি হাজং। দেখতে সাধারণ হলেও এই স্মৃতিস্তম্ভ জনগণ এবং পর্যটকদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।

বিজিবি ক্যাম্পের কাছে আপনি কমলা বাগানের পাহাড়ে যেতে পারেন, যা দুর্গাপুরের আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ। তাছাড়া বিজিবি ক্যাম্পের আশেপাশে রানিখং চার্চে কিছু সময় কাটাতে পারেন। এই পবিত্র স্থানটি ১৯১০ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত নির্মিত হয়েছিল। একটি টিলার উপরে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহাসিক গির্জাটি ধার্মিক মন এবং পর্যটক উভয়কেই আকর্ষণ করে।

দুর্গাপুরে, আপনি হাজং এবং গারো - দুটি জাতিগোষ্ঠীর জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এই জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে, আপনি দুর্গাপুরের বিরিশিরিতে ট্রাইবাল কালচারাল একাডেমি এবং মহারাজা (রাজা) সুসঙ্গের প্রাক্তন প্রাসাদ-এ যেতে পারেন।

বিজয়পুর, দুর্গাপুর কিভাবে পৌঁছাবেন?

ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে আপনি বাস, ট্রেন বা ব্যক্তিগত পরিবহনে দুর্গাপুর পৌঁছাতে পারেন। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিরিশিরির দিকে যাওয়ার বাসে যেতে পারেন। বিরিশিরির কাছে রাস্তাটি বেশ এলোমেলো হওয়ায় খানিকক্ষন কঠিন হতে পারে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকা-জারিয়া রুটে ট্রেন ধরুন। জারিয়া স্টেশনে নেমে, আপনি আপনার পছন্দসই পর্যটন স্পটগুলিতে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় পরিবহন ভাড়া করতে পারেন।

বিজয়পুর স্বপ্নপুরি রিসোর্টটি বিজয়পুরের মধ্যে বহেরাতলীতে অবস্থিত যা দুর্গাপুরের সমস্ত প্রধান আকর্ষণের ঠিক পাশেই একটি পাহাড়ি এলাকা জুড়ে রয়েছে যেখানে পর্যটকরা সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ পাহাড়ের উপরে বসবাসকারী পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যে এই জায়গায় কিছু মজার সময় কাটাতে সক্ষম হবেন।
*এই রিসোর্টটিতে একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে।
শেফ এভ্যাইলেবল আছে।
অর্ডার মাফিক নিম্নে বর্নিত খাবার গুলো সরবরাহ করা হয়ঃ
দেশী মুরগী, নদীর মাছ, সবজি জাতীয় খাবার, বিভিন্ন রকম ভর্তা, খিচুরী, পরোটা/রুটি, ডাল, মাংস, ডিম, ভাত, পোলাও ইত্যাদি।
*পিকনিক স্পট রয়েছে।
*জেনারেটর ও আইপিএস সুবিধা আছে।
*২৪ ঘন্টা সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তা নজরদারি, গার্ড, নাইট গার্ড এবং ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবার পাশাপাশি অবসর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য অন্যান্য দর্শনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং সাজসজ্জা রয়েছে।

*ভাড়াঃ
এসি কিং রুমঃ ৩০০০/ টাকা
এসি কুইং রুমঃ২৫০০/টাকা
নন এসিঃ রুম ১২০০/টাকা
এক্সট্রা বেডঃ৫০০/ টাকা
পিকনিকের জন্য শুধু আউটডোর ভাড়াঃ৫০০০/ টাকা । রুম নিতে চাইলে আলাদা ভাড়া প্রযোজ্য।

* ব্যক্তিগত গাড়ী নিয়ে যেভাবে যাবেন https://www.facebook.com/103314338519627/posts/406891798161878/?d=n

08/02/2023

দূর্গাপুরের প্রকৃতি সৌন্দর্য উজার করে দিয়েছে
মেঘের গান শুনে পথ হারিয়েছে যারা, দূর্গাপুর বিজয়পুরের স্বপ্নপুরী শেষ সীমানা

স্বপ্নপুরী
শাহীন খন্দকার: বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার অন্তর্ভুক্ত দুর্গাপুর উপজেলা, সুসং দুর্গাপুর নামেই পরিচিত। ২৭৮দশমিক ২৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার অবস্থান ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোণা জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের কোল ঘেসে এর উত্তরে ভারতের মেঘালয়।
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু। প্রকৃতি অপার সৌন্দর্য উজার করে দিয়েছে । মেঘেদের গান শুনে পথ হারিয়েছে যারা,দূর্গাপুরের বিজয়পুরের স্বপ্নপুরী তাদের জন্য শেষ সীমানা!

বাংলাদেশের সেই সৌন্দর্য্যরে জায়গাগুলো যাদের দেখা হয়নি, তাঁরা খুব সহজেই বাংলাদেশের গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো ছোট্ট জনপদ সুসংদুর্গাপুর দেখে আসতে পারেন। সীমান্ত ঘেষেই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা বাজার। এখানকার প্রধান নদ-নদী সোমেশ্বরী, কংশ এবং আত্রাখালি নদী।
জনশ্রুতি রয়েছে সোমেশ্বর পাঠককে যুদ্ধে পরাস্ত করে সুসঙ্গ অর্থাৎ ভালো সৎসঙ্গ নামে এক সামন্ততান্ত্রিক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই সোমেশ্বর পাঠকই পরবর্তীতে সুসঙ্গ রাজবংশের আদি পুরুষ। সেই থেকেই দুর্গাপুরের নাম হয় সুসং দুর্গাপুর। যদি আপনি ভ্রমন প্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে আজই ঘুরে আসুন সুসং দুর্গাপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো।

সুসং দুর্গাপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার পাশাপাশি, গারো পাহাড়ের পাদদেশের স্বপ্নপুরী রির্সোটে রাত্রি যাপন করে। দেখতে পারেন, তার পাশেই সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী, হাজং মাতা রাশিমণি স্মৃতিসৌধ, সাদা মাটির পাহাড়। বয়ে গেছে টলমলে ঠিক যেনো বেদেনার কোয়ার মতো জলে নেমে পরশ নিতে পারেন অঙ্গে।

সোমেশ্বরী আর ছোট ছোট টিলা বনের ভিতর দিয়ে দিগন্ত হারিয়েছে আকাশ ছোঁয়া নীল সবুজের পাহাড়ে। ছোট্ট একটি জায়গা যার পরতে পরতে জড়ানো রয়েছে সৌন্দর্য। এখানে দেখার মতো আছে ছোট বড় পাহাড়, সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি, টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।সুসং দুর্গাপুরের উত্তর সিমান্তে নলুয়াপাড়া, ফারংপাড়া, বারোমাড়ি, ডাহাপাড়া, ভবানিপুর, বিজয়পুর ও রানিখংসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য।
স্বপ্নপুরী রির্সোটের এই পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান শালগাছ প্রাকৃতিকভাবেই জন্মেছে। আর এই পাহাড়গুলো প্রাকৃতিক মনোরম সৌন্দর্যের আঁধার। প্রকৃতি তার ঝুলি উজার করে দিয়েছে এ গারো পাহাড়কে সাজাতে। বিচিত্র স্বাদের প্রকৃতির অলংকার যেন মানায় এই ভুস্বর্গকেই।

পাহাড়-পর্বত, ছোট-ছোট নদী, পাহাড়ি ঝরণা, শাল-গজারিসহ নানা প্রজাতির গাছ, সৌন্দর্য উঁচু-নিচু পথ দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখার মজাই আলাদা। সবুজের অপার সমারোহ এই গারো পাহাড়। পাহাড়ের অসমতল উঁচু-নিচু টিলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ঝরনা।
এই ঝর্ণার স্বচ্ছ জলরাশিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পাওয়া যায়। দুই পাহাড়ের মাঝে সমতল ভূমি। সমতল ভূমিতে সবুজ শস্যক্ষেত। পাহাড়ে পায়ে চলার দুর্গমপথে চলাচল করে পাহাড়ি মানুষ। কোথাও কোথাও টিলার ওপর দেখা যাবে ছোটছোট কুঁড়েঘর।

সবুজ গাছের ফাঁকে ফাঁকে নীল আকাশ। অপার সৌন্দর্যের এ পাহাড় চোখ জুড়িয়ে দেয় যেকোনো পর্যটকেরই। এ এলাকায় বাস করে বিভিন্ন শ্রেণীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন। তার মধ্যে গারো, হাজং উল্লেখযোগ্য।
দুর্গাপুরের বাসস্ট্যান্ডের পাশেই অবস্থিত ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি। সুসং দুর্গাপুর ও এর আশপাশের উপজেলা কলমাকান্দা,পুর্বধলা, হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়ায় রয়েছে গারো, হাজং, কোচ, ডালু, বানাই সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর বসবাস। ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমিতে চর্চা হয় তাদের ভাষা সংস্কৃতি। এদের সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করার জন্য ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি।

দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ থেকে ৭ কিলোমিটার দুরে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া ও মাইজপাড়া মৌজায় বিজয়পুরের শসার পাড় ও বহেরাতলী গ্রামে সাদামাটির পাহাড় অবস্থিত। অপরিকল্পিতভাবে এখান থেকে খনিজ সম্পদ সাদামাটি সংগ্রহের ফলে পাহাড়ের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট পুকুরের মতো গভীর জলাধার।
পাহাড়ের গায়ে স্বচ্ছ নীল রঙের জলাধারগুলো দেখতে অত্যন্ত চমৎকার। বিভিন্ন রঙের মাটি, পানি ও প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মনকে বিমোহিত করে। সাদা, গোলাপি, হলুদ, বেগুনি, খয়েরি, নীলাভসহ বিভিন্ন রঙের মাটির পাহাড় চোখ জুড়িয়ে দেয়। সোমেশ্বরী নদী অতিতে মহাশৈল মাছ , লাচোসহ বাণীহড়ি মাছের জন্য বিখ্যাত ছিলো। কালের বিবর্তনে এখন ধুধু বালুচরের জন্য বিখ্যাত। নদীটি মেঘালয় রাজ্যের সিমসাং নদী থেকে বাগমারা বাজার হয়ে বাংলাদেশের রানীখং পাহাড়ের পাশ দিয়ে সোমেশ্বরী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য কোনো মৌসুমে সোমেশ্বরীতে পানি প্রবাহ থাকে না।
এই নদীর পানিতে নেমে পায়ে বালির স্পর্শ পাওয়ার অনুভূতিটা দারুণ। চাইলে মাঝির সাহায্যে ১০ টাকা দিয়ে নদীর এপার ওপার ঘুরে আসতে পারেন। শহুরে এলাকায় যাদের একেবারেই ইট পাথরের চার দেয়ালে বড় হওয়া তাদের ভেতরের মানুষটিকে রঙিন করে তুলতে পারে এ নদীর চারিপাশে এপারে বাংলাদেশের বন টিলার সৌন্দর্য। আর সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ে বুকে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে নীল আকাশ।
আপনি কিভাবে যাবেন ?
যাওয়া এবং ফেরার জন্য সবচাইতে ভালো হবে ঢাকা থেকে সুসং দুর্গাপুরে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জারিয়া স্টেশনে নেমে বাইকে করে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সুসং দুর্গাপুরের দিনে ও সন্ধ্যায় বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। বাসের ভাড়া পড়বে ৪৫০ টাকা। ময়মনসিংহ ব্রীজ থেকে সিএনজিতে ২০০ টাকা আর দুর্গাপুর বাসে যেওতে চাইলে ৬০-৮০ টাকা।

যদিও খানাকন্দ নাই খুবই ভারি ভারি বালু এবং কয়লার ট্রাক চলাচল করে বলে রাস্তা টেকে না কিন্তু সবসময় ভেজা এবং সমান থাকে। বাস থেকে সিএনজি ভ্রমণ আরামদায়ক। ময়মনসিংহ থেকে সময় লাগে মাত্র দেড় ঘণ্টা। এক সিএনজিতে পাঁচজন আসা যায়। আর ঢাকা থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে যেতে। সুসং দুর্গাপুর বাজার থেকে রিকশা বা মোটরসাইকেল নিয়ে সুনীল সোমেশ্বরী নদীপার হয়ে গারো পাহাড়, গোলাপি পাহাড়, নীল/সবুজ পানির লেক ঘুরে আসা যায়।
সেখানে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার ছাড়াও দেখার মতো রয়েছে একটা চার্চ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ট্রেনিং নেওয়ার জন্য কয়েকটি পিলার। সারাদিনের জন্য রিকশা অথবা মোটরসাইকেল ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন পুরো দুর্গাপুর যেখানে আপনাকে খরচ করতে হবে ৮০০-১০০০টাকা (যার কাছে যা রাখতে পারে)। এখানে বিভিন্ন মানের গেস্ট হাউস আছে। বহেরার তলী গ্রামে দূর্গাপুরের শেষ সীমানায় আধুনিক ফাইভস্টার স্বপ্নপুরী রির্সোট।
স্বপ্নপুরি রির্সোটে আপনি ফাইভস্টারের খাবারসহ আতিথেয়তায় চ্যাপা শুঁটকি থেকে শুরু করে মাছভর্তা সবকিছুতেই পাওয়া যায় ঘরোয়া স্বাদ। রয়েছে সর্বক্ষণ বিদুৎ ব্যবস্থা, ইন্টারনেটসহ অত্যাধুনিক সকল ব্যবস্থা। রয়েছে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি গেস্টহাউজ, ইয়ুম মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন রেস্ট হাউজ রয়েছে। যেখানে রুম ভাড়া পড়বে ৭৫০-৩০০০ টাকা। এ ছাড়া এখানে কিছু মধ্যমমানের হোটেলও আছে। স্বর্ণাগেস্ট হাউজ, হোটেল সুসং, হোটেল গুলশান, হোটেল জবা, নদী-বাংলা গেস্ট হাউসে থাকা যায়।

এখানে হয়তো পাওয়া যাবে না ফাইভস্টারের খাবার কিন্তু আতিথেয়তায় চ্যাপা শুঁটকি থেকে শুরু করে মাছভর্তা সবকিছুতেই পাওয়া যায় ঘরোয়া স্বাদ। সারিবদ্ধ সবুজ পাহাড়, স্বচ্ছ পানির পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরী, দিগন্ত বিস্তৃত বালুচর যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। তাই মুগ্ধতা পেতে আর দেরি না করে একবার হলেও ঘুরে আসুন সুসং দুর্গাপুরে।

https://www.amadershomoy.com/env-tourism/article/42185/মেঘের-গান-শুনে-পথ-হারিয়েছ

05/02/2023

আমাদের রিসোর্টের পাশেই
মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে আসা রূপবতী সোমেশ্বরী ❤️
লোকেশন-রানীখং মিশন পাহাড়ের উপর থেকে।

03/02/2023

রিসোর্টের আশেপাশে মায়া বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকে



31/01/2023

নিভৃত জীবনের সুখ শান্তি যেখানে খুজে পাওয়া যায়

09/12/2022

দুর্গাপুর বিজয়পুর স্বপ্নপুরী রিসোর্টে যাচ্ছি
বিরিশিরি-শিবগন্জ অস্থায়ী কাঠের সেতু পার হচ্ছি
🌸

29/11/2022

বিজয়পুর স্বপ্নপুরী রিসোর্টের সম্মানিত গেষ্টবৃন্দ আজ থেকে টোল ইজারাদারকে নির্ধারিত টোল দিয়ে দুর্গাপুর বিরিশিরি হয়ে অস্থায়ী ব্রীজের উপর দিয়ে সরাসরি প্রাইভেট, মাইক্রোবাস, অটো রিক্সা , সিএনজি নিয়ে রিসোর্টে যেতে পারবেন। আগামী কয়েকদিনের ভিতর তেরীবাজার হয়ে দ্বিতীয় অস্থায়ী ব্রীজের উপর দিয়েও প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাবাস, অটো রিক্সা, সিএনজি চলাচল করবে।
বিস্তারিত জানতে কল করুন। +880 19 2091 7150

রিসোর্ট থেকে বাংলাদেশ-ভারত বোর্ডার ড্রাইভে পাশ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া,খারনৈ,রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী অপ...
17/11/2022

রিসোর্ট থেকে বাংলাদেশ-ভারত বোর্ডার ড্রাইভে পাশ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া,খারনৈ,রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী অপূরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি দেখতে পারবেন।

17/11/2022

রিসোর্টির এক কিলোমিটার অদুরেই পাহাড়ে কমলা,মাল্টা ও পামওয়েল প্রভৃতি বাগান।পাহাড়ের উপরে মনপ্রাণে প্রশান্তি এনে দেয় সোমেশ্বরী নদী ও ভারতের মেঘালয়ের অপরূপ দৃশ্য।

বিজয়পুর স্বপ্নপুরী রিসোর্টটি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুরের মধ্যে বহেরাতলীতে অবস্থিত যা দুর্গাপুরের সমস্ত...
11/11/2022

বিজয়পুর স্বপ্নপুরী রিসোর্টটি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুরের মধ্যে বহেরাতলীতে অবস্থিত যা দুর্গাপুরের সমস্ত প্রধান আকর্ষণের ঠিক পাশেই একটি পাহাড়ি এলাকা জুড়ে।

প্রকৃতি চাপ মুক্ত করে আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। এটা বলা হয় যে আমাদের প্রতি বছর একটি নতুন জায়গা পরিদর্শন করা উচিত। যাইহোক, আপনি যখন সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করেন তখন বিলাসবহুল ভ্রমণের পরিকল্পনা করা সম্ভব নাও হতে পারে। আপনি যদি গোলাপী পাহাড়, নীল জলের পুকুর এবং একটি স্রোতস্বীনি নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য অনুভব করতে চান তবে এক দিনের বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, দুর্গাপুরে যান। এই নয়নাভিরাম স্থানটি বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে অবস্থিত। নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের স্মারক স্পর্শ ধারণ করে। বাংলাদেশের অন্যান্য পর্যটন স্পটের মতো প্রচার না হলেও, দুর্গাপুর বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর স্থান।
দুর্গাপুর বহুমুখী টপোগ্রাফিতে সমৃদ্ধ। দুর্গাপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলির মধ্যে রয়েছে সোমেশ্বরী নদী, সাদামাটির পাহাড়, নীল পানির লেক, রানিখং চার্চ, হাজং মাতা রাশিমনি মনুমেন্ট, কালচারাল একাডেমি ,মহারাজা সুসঙ্গের প্রাসাদ, হাজং জনগোষ্ঠীর আদিবাসী সম্প্রদায়, গারো গ্রাম, দশা ভূজা মন্দির, রামকৃষ্ণ মন্দির, বিজয়পুর বর্ডার, অরেঞ্জ ফরেস্ট, কংশ নদী, গজারি ফরেস্ট ইত্যাদি এই জায়গাগুলো সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ বিবরণ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

দুর্গাপুরের মাটিতে পা রাখলেই সোমেশ্বরী নদীর মোহনীয় সৌন্দর্য আপনার মন কেড়ে নেবে। উল্লেখ করার মতো নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম অত্যাশ্চর্য নদী। ভারতের মেঘালয়ে গারো-খাসি রেঞ্জের অন্তর্গত গারো পাহাড় থেকে উৎপন্ন এই পাহাড়ি নদীটি বিজয়পুর সীমান্ত, নেত্রকোনা দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। দুর্গাপুরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখতে নৌকায় করে সোমেশ্বরী নদী পার হতে হয়। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই মায়াবী নদী সোমেশ্বরী এই প্রাকৃতিক দৃশ্যে পরিবর্তন আনে। বর্ষার বৃষ্টি এই নদীকে অশান্ত করে তোলে কিন্তু এর সৌন্দর্য পূর্ণতা দেয়। মেঘালয় পাহাড়ের পটভূমিতে অবস্থিত এই নদীটির আলোকিত সৌন্দর্য আপনার মনে চিরকাল থাকবে। তবে শীতকালে পানি প্রায় শুকিয়ে যায়!

সাদামাটির পাহাড় এলাকা দুর্গাপুরের আরেকটি অবিস্মরণীয় প্রাকৃতিক সম্পদ। বিভিন্ন জায়গায় আপনি চায়না ক্লে মাটি দিয়ে তৈরি পাহাড় দেখতে পাবেন। দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের সিরামিক হিলস সারা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য খ্যাতি অর্জন করেছে। কুল্লাগড়া ইউনিয়নের লাইমস্টোন লেকের আশেপাশেও এই মাটির টিলা পাওয়া যায়। এই পাহাড়গুলো চায়না মাটির পাহাড় বা চায়না ক্লে হিলস নামেও পরিচিত। এই পাহাড়গুলিকে সাধারণ পাহাড় থেকে আলাদা করে তুলেছে তাদের আশ্চর্যজনক গোলাপী রঙের মাটি। এই একচেটিয়া চেহারার পিছনে রহস্য হল মাটির বিশেষ রাসায়নিক গঠন। 1960 সাল থেকে, সিরামিক কোম্পানিগুলি সিরামিক বস্তু এবং ক্রোকারিজের উপাদান সংগ্রহের জন্য বিরিশিরিতে খনন করছিল। আপনার ভ্রমণে কিছু রোমাঞ্চ যোগ করতে আপনি এই সিরামিক পাহাড়গুলিকে হাইক করতে পারেন। আর কি আছে? বর্ষাকালে এসব পাহাড়ের উপত্যকায় নীল জল জমে থাকে পুরো পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলে রোমান্স।

বিজয়পুর অরেঞ্জ গার্ডেন এই এলাকার একটি বহুল পরিচিত পর্যটন পাহাড় স্পট, যেখানে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্য এবং মৌসুমে কমলা গাছ রয়েছে। এটিতে একটি ওয়াচ টাওয়ারও রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, নান্দনিক এবং চোখ ধাঁধানো দৃশ্য এখানে দেখা যায় যেখানে অনেক পর্যটক এই স্পট পরিদর্শন করেন। এর আশেপাশে দোকান রয়েছে যেখানে ভারতীয় পণ্য বিক্রি হয়।

গোলাপী পাহাড়ের পটভূমিতে একটি সুরম্য নীল জলের পুকুরের পাশে কিছু শান্ত মুহূর্ত কাটাতে চান? কুল্লাগড়া ইউনিয়নে ' নীল পানির লেক' নামে এমন একটি স্বর্গীয় স্থান দেখতে পাবেন। এই ঐশ্বরিক নীল জলের হৃদয়-ছোঁয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার আত্মাকে প্রশান্ত করে তুলবে আপনাকে ব্যস্ত শহরের জীবনের কোলাহল থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। এই হ্রদটি নীল পুকুর, চায়না মাটির হ্রদ, চায়না ক্লে লেক ইত্যাদি নামেও পরিচিত। এর একচেটিয়া নীল জলের পিছনের রহস্য হল মাটিতে রাসায়নিক যৌগ বিশেষ করে কপার সালফেটের উপস্থিতি। যাইহোক, এই পুকুরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জলে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এই চুনাপাথর হ্রদটি মোটামুটি গভীর, তাই সাঁতার কাটার জন্য যে কোনও প্রচেষ্টা আপনার জীবন বিপন্ন করতে পারে।

দুর্গাপুরে আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময়, বিজয়পুর নেত্রকোনায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বিজিবি ক্যাম্প মিস করবেন না। এই জায়গা থেকে, আপনি ভারতের মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়ের মন-ফুঁকানো মেঘ-আলিঙ্গন উপভোগ করতে পারেন। উল্লেখ করার মতো নয়, এখানে আপনি পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই বিদেশে যাওয়ার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন। সোমেশ্বরী নদীর পাশে বিজিবি ক্যাম্প থাকায় আশেপাশের জায়গা দেখার জন্য আপনি নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন।

দুর্গাপুরের উত্তরে বাদামবাড়ি, দাহাপাড়া, লালটিলা, ফান্দা ভ্যালি, গোপালপুরের সৌন্দর্যও মুগ্ধ করে।

দুর্গাপুরের চারুয়াপাড়া থেকে কলমাকান্দা পর্যন্ত সীমান্ত সড়ক দিয়ে বোর্ডার ড্রাইভে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন ।
বিজয়পুর বিডিআর ক্যাম্পের দিকে যাত্রার সময় আপনি হাজং রাশিমনি স্মৃতিসৌধ দেখতে পাবেন যা হাজং রোশিমনির সাহসী আত্মত্যাগের স্মরণে নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় জমিদার এই এলাকার সব জমির মালিক ছিলেন। দরিদ্র কৃষকদের জমি চাষ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তাদের ফলন দিতে বাধ্য করা হয়েছিল যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে প্রতিবন্ধী করে তুলেছিল। ১৯৩৮ সালে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের জাতিগত কৃষকরা রাশিমনির নেতৃত্বে টঙ্ক আন্দোলন নামে একটি সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৪৬ সালে স্বৈরশাসকের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন রাশিমনি হাজং। দেখতে সাধারণ হলেও এই স্মৃতিস্তম্ভ জনগণ এবং পর্যটকদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।

বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্পের কাছে আপনি কমলা বাগানের পাহাড়ে যেতে পারেন, যা দুর্গাপুরের আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ। রিসোর্টির এক কিলোমিটার অদুরেই এই পাহাড়ে রয়েছে কমলা,মাল্টা ও পামওয়েল প্রভৃতি বাগান।পাহাড়ের উপরে মনপ্রাণে প্রশান্তি এনে দেয় সোমেশ্বরী নদী ও ভারতের মেঘালয়ের অপরূপ দৃশ্য।এই পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে বৈচিত্রময় সৌন্দর্য।

তাছাড়া বিজিবি ক্যাম্পের আশেপাশে রানিখং চার্চে কিছু সময় কাটাতে পারেন। এই পবিত্র স্থানটি ১৯১০ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত নির্মিত হয়েছিল। একটি টিলার উপরে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহাসিক গির্জাটি ধার্মিক মন এবং পর্যটক উভয়কেই আকর্ষণ করে।

দুর্গাপুরে, আপনি হাজং এবং গারো - দুটি জাতিগোষ্ঠীর জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এই জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে, আপনি দুর্গাপুরের বিরিশিরিতে ট্রাইবাল কালচারাল একাডেমি এবং মহারাজা (রাজা) সুসঙ্গের প্রাক্তন প্রাসাদ-এ যেতে পারেন।

বিজয়পুর, দুর্গাপুর কিভাবে পৌঁছাবেন?

ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে আপনি বাস, ট্রেন বা ব্যক্তিগত পরিবহনে দুর্গাপুর পৌঁছাতে পারেন। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিরিশিরির দিকে যাওয়ার বাসে যেতে পারেন। বিরিশিরির কাছে রাস্তাটি বেশ এলোমেলো হওয়ায় খানিকক্ষন কঠিন হতে পারে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকা-জারিয়া রুটে ট্রেন ধরুন। জারিয়া স্টেশনে নেমে, আপনি আপনার পছন্দসই পর্যটন স্পটগুলিতে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় পরিবহন ভাড়া করতে পারেন।

বিজয়পুর স্বপ্নপুরি রিসোর্টটি বিজয়পুরের মধ্যে বহেরাতলীতে অবস্থিত যা দুর্গাপুরের সমস্ত প্রধান আকর্ষণের ঠিক পাশেই একটি পাহাড়ি এলাকা জুড়ে রয়েছে যেখানে পর্যটকরা সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ পাহাড়ের উপরে বসবাসকারী পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যে এই জায়গায় কিছু মজার সময় কাটাতে সক্ষম হবেন।
*এই রিসোর্টটিতে একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে।
শেফ এভ্যাইলেবল আছে।
অর্ডার মাফিক নিম্নে বর্নিত খাবার গুলো সরবরাহ করা হয়ঃ
দেশী মুরগী, নদীর মাছ, সবজি জাতীয় খাবার, বিভিন্ন রকম ভর্তা, খিচুরী, পরোটা/রুটি, ডাল, মাংস, ডিম, ভাত, পোলাও ইত্যাদি।
*পিকনিক স্পট রয়েছে।
*জেনারেটর ও আইপিএস সুবিধা আছে।
*২৪ ঘন্টা সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তা নজরদারি, গার্ড, নাইট গার্ড এবং ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবার পাশাপাশি অবসর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য অন্যান্য দর্শনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং সাজসজ্জা রয়েছে।

*ভাড়াঃ
এসি কিং রুমঃ ৩০০০/ টাকা
এসি কুইং রুমঃ২৫০০/টাকা
নন এসিঃ রুম ১২০০/টাকা
এক্সট্রা বেডঃ৫০০/ টাকা
পিকনিকের জন্য শুধু আউটডোর ভাড়াঃ৫০০০/ টাকা । রুম নিতে চাইলে আলাদা ভাড়া প্রযোজ্য।

* ব্যক্তিগত গাড়ী নিয়ে যেভাবে যাবেন https://www.facebook.com/103314338519627/posts/406891798161878/?d=n

বি:দ্র: রিসোর্টের পেইজের টাইমলাইনে ভিডিওগুলো দেখে বেড়ানোর আকর্ষনীয় স্থানগুলো দেখে নিতে পারেন।

Find local businesses, view maps and get driving directions in Google Maps.

10/11/2022

স্বপ্নপুরী রিসোর্টের অদুরেই নয়নাভিরাম সাদামাটির পাহাড়

10/11/2022

স্বপ্নপুরী রিসোর্টের পাশেই বাংলাদেশ-ভারত বোর্ডার ড্রাইভ

10/11/2022

স্বপ্নপুরী রিসোর্টের অদুরেই সুউচ্চ কমলাবাগান পাহাড়ের চুড়া থেকে সুমেশ্বরী নদী ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অপার সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। এই ভিডিও তে পাহাড়ের পাদদেশের চিত্র দেয়া হল।

Address

Boheratoli, Bijoypur, Durgapur, Netrokona
Mymensingh
2420

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bijoypur Shopnopuri Resort posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Bijoypur Shopnopuri Resort:

Share

Category