13/08/2024
প্রবাসীর কান্না : দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই !!
আমার স্বপ্নের বাড়িটি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে !!
প্রফেসর ডঃ মোঃ জাকির হোসেন, গুন্মা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান
গত ৭ই আগস্ট ২০২৪ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগের দিন রাত আনুমানিক ১:৩০ এর দিকে এলাকার কিছু চিন্তিত দুস্কৃতিকারী আমার দীর্ঘ প্রবাস জীবনের সঞ্চিত অর্থে নির্মিত বাড়িটি লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করে. বাড়িটি মূলত প্রায় ১০ একর আয়তনের মৎস খামারের ভিতর নির্মিত . সাম্প্রতিক সময়ে বাড়িটি সহ মৎস খামারটিকে বিভিন্ন ধরণের গাছ গাছালি দিয়ে সৌন্দর্য্য বর্ধন করে "J & J Aqua Land & Resort " নামে নামকরণ করা হয় . এটি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা দাশুড়িয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভবানীপুর গ্রামে অবস্থিত . যেহেতু আমি প্রবাসে অবস্থান করি, তাই এটি সম্পূর্ণরূপে আমার ছোটভাই আফজাল হোসেন রতন এবং অন্যান্য ভাইদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতায় গড়ে উঠে . এলাকায় এটি আফজাল সাহেবের প্রজেক্ট বা রিসোর্ট হিসেবে ব্যাপক পরিচিত !
অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন এই ধ্বংসযজ্ঞের পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছিলো কিনা !! আমি দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর জাপানে অবস্থান করি. কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলাম না . মিছিল মিটিং বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালীন এরশাদ বিরুধী আন্দোলনে কারফিউ ভেঙে মিছিল আর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দুদু -রিপন এবং আমান - খোকন পরিষদের মিছিলে !! এটুকুই !! আমার ভাই ব্রাদারের ভিতর বড়ভাই ফজলুল হক বিএনপি এর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এলাকায় কিছুদিন মিছিল মিটিং করাতে আমাদের পৈতৃক বাড়িটিকে আওয়ামী বিরুধী হিসেবে দেখতো !! উল্লেখ্য আমার এই স্বপ্নের বাড়িটি আমার পৈতৃক বাড়ী থেকে প্রায় ১৫ কিঃমিঃ দূরে ঈশ্বরদী -পাবনা হাইওয়ের পাশে অবস্থিত .
আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে এই জায়গাটি আমি ক্রয় শুরু করি যেটা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করি. যে ভদ্রলোকের থেকে আমি এটি ক্রয় করি উনিও অন্য এলাকার থেকে গিয়ে এখানে বসতি গড়েছিল . কিন্তু এলাকার এই চিন্তিত দুস্কৃতিকারীদের নানাবিধ অনাচার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে টিকতে না পেরে আমার কাছে বিক্রি করে দেয় ! মূলতঃ এলাকাটি শিক্ষা দীক্ষায় খুব অনগ্রসর . বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর আর রিক্সা ভ্যান কিংবা টেম্পু চালিয়ে জীবিকা ধারণ করে ! এর ভিতর অনেকেই মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত . আমার ক্রয়কৃত জায়গাটির এক অংশে মাদকের নিয়মিত আসর বসত. আমি ক্রয় করে এটিকে মৎস খামারে রূপান্তরিত করায় , সেই মাদকাসক্তরা ক্ষিপ্ত হয় . তখন থেকেই বিভিন্ন ভাবে উত্তক্ত করতো . পুকুরের মাছ ধরে নিতো , বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলতো , গাছ কেটে ফেলতো ইত্যাদি . বিভিন্ন উছিলায় চাঁদা দাবী করতো . চাঁদার পরিমান মনোপুত না হলেই রাতের আঁধারে অন্যায়গুলো করতো. এই দুস্কৃতিকারীদের ধারণা ছিলো, ভয়ভীতি অন্যায় অত্যাচার করলে হয়তো আগের মালিকের মতো আমরাও এটা পরিত্যাগ করে চলে যাবো. বিভিন্ন অন্যায় অত্যাচার করেও যখন আমাদের উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয় তখন থেকেই এক্সট্রিম কিছু করবে বলে নানা ধরণের পরিকল্পনা করতে থাকে . এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এলাকার মাদকাসক্ত ও সুযোগসন্ধানীদের শ্রনীবিদ্বেষ সৃষ্টি করে একত্রিত করার মূল ভূমিকা পালন করে রনি. রনি মূলতঃ সুযোগ সন্ধানী অর্থের বিনিময়ে প্রভাশালীদের স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করে থাকে !! একে ওপরের ভিতর উস্কানি দিয়ে শত্রুতা সৃষ্টি করে নিজে লাভবান হওয়া, সমাজে উদীয়মান শিক্ষিত পরিবার গুলোকে নানা ভাবে উত্তক্ত করে এলাকা ছাড়া করাই এর নেশা এবং পেশা !! আমার মতো যারা গ্রামে বড় হয়েছেন , কম বেশি সবাই এই ধরণের চরিত্রের সাথে পরিচিত ! বিভিন্ন ভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে রনি দুস্কৃতিকারীদের একটা বলয় তৈরী করে, যে গ্রূপে আছে অত্র এলাকার পরিচিত মুকুল ,সাহেব আলী, রাজালি ,বিলু, বকুল,খাইরুল ,আজাদ ,আরজু,মমিন ,আলতাব, ইসলাম ,নুর ইসলাম ,আকুব্বার,আসমত,আসলাম,আলতাব, মোজাম ,বাবু ,মতিন ,সেলিম ,কামরুল ,রুসনায় ,রাকাত, সাকাত,নাজমুল, বিল্লাল সহ অনেকে ।
এই চিন্তিত দুষ্কৃকারীরা এর আগেও কিছু স্বার্থানেষী মহলের আর্থিক সহায়তায় ও পরোক্ষ মদদে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করে কিন্তু প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে ব্যর্থ হয় . এবারে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশে আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নিমিত্তে লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে. এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী দুস্কৃকারীদের কোনো দল নেই ! দলের নাম ভাঙিয়ে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে !! আফসোস যে এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অত্র এলাকার ক্ষমতাচ্যুত শাসক গোষ্ঠীর কারো কোনো ধরণের ক্ষতি হলো না , ক্ষতি করলো আমার মতো একজন প্রফেসরের সারাজীবনের হালাল রুজিতে গড়া সম্পদের .
বর্তমান দলনিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার ও লোকাল প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন , তারা যেন এই লুটপাট ও অগ্নিসংযোগকারীদের প্রত্যেককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রধান করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে . আমি জানি আমার এই ক্ষতিসাধন দেখে অনেক প্রবাসীই দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে . এদের দৃস্টান্তমূল শাস্তিই পারে আমার মত প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে .