30/06/2022
আমাদের সিলেটের তথা বাংলাদেশের গর্ব পিতা ও পুত্র পরম্পরা
আবিদ রেজা চৌধুরী
প্রধান প্রকৌশলী
ডাউকি সেতু, উমগট্ নদী ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ
পশ্চিম জয়ন্তিয়া জেলা, মেঘালয়, ব্রিটিশ ভারত
জামিলুর রেজা চৌধুরী
প্রধান পরামর্শক
পদ্মা সেতু, পদ্মা নদী ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
মুন্সিগঞ্জ-শরীয়তপুর জেলা, বাংলাদেশ
যারা সিলেট হয়ে মেঘালয় বেড়াতে যান তারা অবশ্যই ডাউকি সেতু পার হন। অন্যদিকে যারা তামাবিল জিরো পয়েন্ট ঘুরতে যান, তারাও সেখানে ভারতের একটি ঝুলন্ত সেতু দেখতে পান। এই সেতুটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৩২ সালে। সেতু নির্মাণে প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন সিলেটের কৃতী সন্তান আবিদ রেজা চৌধুরী।
সেতুটি নির্মাণের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। ১৯১৯ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং বেড়াতে এসেছিলেন। এটা শুনে তৎকালীন শ্রীহট্টে (বর্তমান সিলেটে) কবিকে নিয়ে আসার তোড়জোর শুরু হয়। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় যাত্রাপথ। তখন উমগট নদীর উপর কোন সেতু ছিল না, গাড়ি চলার পথও সেভাবে ছিল না। মানুষ পার হতো মানুষের পীঠে চড়ে! রবীন্দ্রনাথ মানুষের পীঠে চড়ে এভাবে আসতে রাজী হননি।
অনেকটা ঘুরে তাই ট্রেনে করে তিনি সিলেটেআসেন গৌহাটি-বদরপুর-লাতু (বড়লেখার শাহবাজপুর) কুলাউড়া পথ দিয়ে।
এরপরই সিলেট-শিলং সরাসরি সড়ক পথটি নির্মাণের আলোচনা জোরালো হয়। তখনকার প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী সিলেটের বুরঙ্গা গ্রামের বসন্ত কুমার দাস বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন। তার চেষ্টায় বাজেট বরাদ্দও হয়ে যায়। কিন্তু উমগট নদীতে খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়কে যুক্ত করতে কঠিন একটি সেতু নির্মাণের দরকার পড়ে। তখন আবিদ রেজা চৌধুরী প্রকৌশলী হিসেবে শিলং-এ চাকরিরত ছিলেন। আবিদ রেজার বাড়ি ছিল তৎকালীন সিলেটের করিমগঞ্জে। পরে তাঁর পরিবার বড়লেখার শাহবাজপুরে থিতু হয়েছিল। তার উপরই পড়ে সেতুর নকশার ভার। ১৯৩০ সালে আবিদ রেজার নকশা, নির্দেশনায় তৈরি হতে থাকে এই সেতু।
ব্রিটিশ ভারতে আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিল শিলং। আর সিলেট ছিল আসামের একটি জেলা শহর। দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে ৯০ বছর আগে তৈরি হয় সরাসরি যোগাযোগের পথ। যা আজও চলামান।
গল্পটি এই সময়ে প্রাসঙ্গিক কারণ আবিদ রেজার পুত্র অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীও আরেকটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ইতিহাসে নাম উঠালেন। প্রয়াত জামিলুর রেজা ছিলেন পদ্মা সেতুর প্রধান পরামর্শক। মানুষের চলাচলের ব্যবস্থাকে সহজ করে দেওয়া দুই কীর্তিমানকে শ্রদ্ধা।
(তথ্যসূত্র: সংগৃহীত)
বিশ্বনন্দিত, প্রথিতযশা প্রকৌশলী জামিলুর রেজা চৌধুরী'র উল্লেখযোগ্য অবদান:
স্বাধীনতার পর এ দেশে যত বড় বড় ভৌত অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তার প্রায় প্রতিটির সঙ্গেই জামিলুর রেজা চৌধুরী কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। সম্পৃক্ত ছিলেন যমুনা নদীর উপর তৈরি বঙ্গবন্ধু সেতু এবং পদ্মা সেতু নির্মাণ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা সাবওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলেও ছিলেন তিনি।
সূত্র: বুয়েট ওয়েবসাইট
Credit Saleh Ahmed
অধ্যক্ষ এম সি কলেজ সিলেট