14/11/2025
সর্বভারতীয় ইউপিএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বেড়াচাঁপার রহমতে আলম মিশনের ছাত্র সাহিন আক্তার মুন্সী।
ইউপিএসসি পরিচালিত মাত্র ৩৩ আসনের মার্কেটিং অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় সারা ভারত থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করল রহমতে আলম মিশনের কৃতি ছাত্র সাহিন আক্তার মুন্সী। গ্রুপ ওয়ান অফিসার হিসেবে সাহিন নিয়োগ পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার এন্ড ফারমার্স ওয়েলফেয়ারের অধীনস্থ ডাইরেক্টরেট অফ মার্কেটিং এন্ড ইনস্পেকশনে।
সাহিন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে রহমতে আলম মিশনেই পড়াশোনা করেছেন। এরপরে স্নাতক স্তরে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করে নিউ দিল্লির ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি করছেন।
রহমত আলম মিশন সুত্রের খবর, নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহিন আক্তার মুন্সী। ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে রহমতে আলম মিশনে ভর্তি হন। রহমতে আলম মিশন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তথা পিছিয়েপড়াবর্গের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে রাজ্যের স্বনামধন্য আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
২০০৯ সালেই সাহিনের পিতা জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রয়াত হন। তখন তার বয়স মাত্র দশ বছর। পরিবারের অভিভাবকের এই আকস্মিক প্রয়াণে তার মা ফরিদা মুন্সী দিশেহারা হয়ে পড়েন। ছুটে এসেছিলেন রহমতে আলম মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রয়াত হাজী সিরাজুল ইসলাম সাহেবের কাছে। ওই কঠিন সময়ে একজন অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানবদরদী সম্পাদক সাহেব। নামমাত্র বেতনে মাধ্যমিক স্তরে এবং সম্পূর্ণ বিনাবেতনে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়াশুনোর ব্যবস্থা করে দেন তিনি।
সাহিনের কথায়, 'আম্মার অশেষ প্রচেষ্টা, সাহস এবং আলহাজ্ব সিরাজুল স্যারের সহযোগিতা ছাড়া আমার শিক্ষা যাত্রা শুরু হতো না।' তার এই উল্লেখযোগ্য উচ্চ-সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ সাহিন আরও বলেন - আজকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে আমার আব্বার স্বপ্ন, আমার আম্মার ত্যাগ ও শ্রম আর রহমতে আলম মিশনের অমূল্য অবদান।
রহমতে আলম মিশনই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখানে আমি শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা পাইনি - শিখেছি মানুষ হওয়ার শিক্ষা, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ এবং লক্ষ্যকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।
এই অসাধারণ সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে শাহিনের পরিবারে, গ্রামে ও রহমতে আলম মিশনে। এই প্রসঙ্গে রহমতে আলম মিশনের বর্তমান সম্পাদক আনিসুর রহমান (বিদেশ) বলেন, 'যখন চারদিকে এই প্রজন্মের একটা বৃহৎ অংশের ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহ, যখন দিকে দিকে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে, যখন ছাত্রছাত্রীদের দিশাহীনতা প্রকট হচ্ছে - তখন সাহিনের মত ছেলেরা নতুন করে আশার আলো জ্বালছে।
আনিসুর রহমান বিদেশ বলেন , সাহিনরা এই প্রজন্মকে নতুন দিশা দেখাতে পারবে। রহমতে আলম মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আমার আব্বা বেঁচে থাকলে আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারতেন না। সাহিন আক্তার মুন্সী আমাদের মিশন পরিবারের গর্ব। আমাদের যত্নে গড়া সম্পদ। সাহিন ও তার পরিবারকে, বিশেষ করে তার আম্মাকে অন্তরের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।'