09/05/2026
গঙ্গাসাগর অন ক্রুজ
~~~~~~~~~~~~~
সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার—এই কথাটা ছোটো থেকেই শুনে আসছি। সত্যি বলতে কী, গঙ্গাসাগরে আমার একবারও যাওয়া হয়নি। একবার লট নম্বর ৮ পর্যন্ত গিয়েও ফেরি ক্রস করা হয়নি। কিন্তু বিগত দু’বছরে অন্তত আট-নয় বার ঘোরা হয়ে গেল আমার। পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার দৌলতে আট-নয় বার ট্যুরিস্ট নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম কপিল মুনির আশ্রমে।
চলুন, একটু বিস্তারিতভাবে ব্যাপারটা আপনাদের বলি। Osprey Waterways নামক একটি সংস্থা নিয়মিত জলযানে করে গঙ্গাসাগরে তীর্থযাত্রী নিয়ে যায়। খবর পেলাম, কিন্তু অধিকাংশ সময় পর্যাপ্ত লোকজন না হওয়ায় যাত্রা বাতিল হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই অল্প লোক নিয়ে এত বড় ক্রুজ চালানো লোকসানের।
তাই আমরা ঠিক করলাম একটি বাল্ক বুকিং করব। ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে মিলেনিয়াম পার্ক থেকে যাত্রা শুরু করলাম। সড়কপথে অনেকেই এই যাত্রা করে থাকবেন—ডায়মন্ড হারবার রোড দিয়ে কাকদ্বীপের পর ডানদিকে ঘুরে লট নং ৮ থেকে ফেরি পেরিয়ে বাসে করে ৩০ কিমি গঙ্গাসাগর।
কিন্তু আজ বলব এক অন্যরকম অভিজ্ঞতার কথা। গঙ্গার পথ ধরে মোহনার দিকে পাড়ি—উফ! সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। বিলাসবহুল ক্রুজ, বাতানুকূল কেবিন আর প্যাকড ব্রেকফাস্ট। কোনোমতে ব্রেকফাস্ট সেরে পৌঁছে গেলাম ডেকে। গঙ্গার মনোরম হাওয়া আর অপূর্ব দৃশ্য দেখে সকলেরই মন-প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।
ঘণ্টা চারেকের এই পথ আপনার সারা জীবনের এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে—কথা দিলাম।
এবার আসি ক্রুজের ভেতরের কথায়। ক্রুজটি চারটি বিভাগে বিভক্ত—
প্রথমত, প্রিমিয়াম ক্লাস—অনেকটা বিমানের বিজনেস ক্লাসের মতো। চারিদিকে কাঁচের জানলা, আরামদায়ক সিট, তবে একটু কনজেস্টেড (আমার মতে)। ৩×৩ সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট। তবে এখন নতুন সিট লাগানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ইকোনমি ক্লাস—এই জায়গাটি বেশ চওড়া। এখানেও দু’দিকে কাঁচের জানলা, ৪×৩ সিটিং ব্যবস্থা, গান-বাজনার সুন্দর আয়োজন, একটি টিভিও আছে—তবে চালানোর প্রয়োজন হয় না।
হ্যাঁ, বলে রাখা ভালো—তিনটি টয়লেট আছে, এবং খাবারের জন্য ঠান্ডা ও গরম জলের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তৃতীয় বিভাগ হলো ক্যাপ্টেনের কেবিন, যা দোতলায়। এখানেও সুন্দর সোফা পাতা আছে। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে গল্প করতে করতে দারুণ সময় কাটবে।
চতুর্থ বিভাগ হলো ডেক—যা আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। খোলা আকাশের নিচে, নদীর মনোরম হাওয়ায় গেয়ে উঠতে ইচ্ছা করবে—
“তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে…”
একটা কথা বলতে পারি—একবার এই যাত্রা করলে আপনাকে বলতেই হবে,
“সব তীর্থ একবার, গঙ্গাসাগর বারবার।”
ঘন্টাচারেকের এই সুন্দর যাত্রার পর আমরা পৌঁছে যাব কচুবেড়িয়া ঘাট সেখানে অপেক্ষমাণ আমাদের গাড়ি (এসি টাটা সুমো) আমাদের নিয়ে চলবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজিমের বিলাসবহুল কটেজে, একটা কথা বলতে পারি One of the best property of WBTDCL এর প্রত্যেকটা কটেজ স্যুট রুম দুটো ঘর একটা ছোটো একটা মাস্টার বেডরুম অবশ্যই দুটো রুমে এ্যাটাচ বাথরুম আছে, দুটো ঘরেই এসি টিভি আছে। আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে চারজন থেকে পাঁচজন অনায়াসে থাকা যায়।
এবার আসি ভাড়ার কথায়—
প্রিমিয়াম সিটের ভাড়া ১৫০০ টাকা (একপিঠ, কলকাতা–কচুবেরিয়া)
ইকোনমি সিটের ভাড়া ১৩৫০ টাকা (একপিঠ, কলকাতা–কচুবেরিয়া)
আমাদের প্যাকেজ একটা রুমে দুজন থাকলে ১রাত ২দিনের খরচ ৩৫০০ জনপ্রতি (সমস্ত খাওয়াদাওয়া ঘোরা নিয়ে)আর একটা রুমে তিন বা অধিক জন থাকলে ৩০০০ জনপ্রতি। অতএব অপ ডাউন ক্রুজ টিকিট প্রিমিয়াম জনপ্রতি (কলকাতা থেকে কলকাতা)আর থাকা খাওয়া ঘোরা নিয়ে ৩৫০০ টাকা টোটাল ৬৫০০ জনপ্রতি ডবল শেয়ার। ইকোনমি টিকিট সহ ট্রিপিল শেয়ার খরচ ৫৭০০ জনপ্রতি ।
১৮ই জুলাই আমাদের ট্যুর রয়েছে বুকিং চলছে।
যারা যেতে চান, যোগাযোগ করুন—
SCCH TOURS & TRAVELS
📞 8017548939 / 9836494093