25/01/2026
পৃথিবীতে ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষ। অনেক সময় সরলতার আড়ালেও কিছুটা লোভ লুকিয়ে থাকতে পারে। এখানে আমি দ্বিতীয় ধরনের একজন মানুষের কথা বলছি—তিনি হলেন প্রবীর মজুমদার।
অনেক বছর আগের কথা। শুনেছি, তিনি এক সময় চারচাকা গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন—কখনও ভাড়ায়, কখনও রবীন্দ্র ভারতী অঞ্চলে। আবার কখনও বিটি রোডের ধারে খাবারের দোকানে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করতেন। সেই সময়টা মোটামুটি স্বচ্ছ ও সাদামাটা ছিল। হাসি-ঠাট্টা, আড্ডা, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া—সবই চলত স্বাভাবিকভাবে।
প্রায় এক বছর আগে প্রবীরের পাড়ায় আশীষ গুপ্তর একটি টাটা সুমো চুরি যায়। থানায় মামলা হলেও তাতে বিশেষ কোনো ফল হয়নি—এই ঘটনাটা শুধু প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করছি।
পরবর্তীতে ধান্দাবাজ আশীষ গুপ্ত পাহাড়ে একটি রিসোর্ট গড়ে তোলেন, যার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবীরের উপর। কয়েক বছর কাজ চলার পর প্রবীর পাহাড় সংক্রান্ত আয়ের ২৫–৩০ শতাংশ ভাগ দাবি করেন—এই দাবি আদৌ পূরণ হয়েছে কি না, তা জানা নেই। কিন্তু আরও কিছু বছর পর দেখা যায়, পাহাড়ের বেশিরভাগ বুকিং প্রবীরের নামেই হচ্ছে, বহু মোবাইল নম্বর তাঁর সঙ্গে যুক্ত। কারণ হিসেবে শোনা যায়, অফ-স্পট বুকিং ও টাকার বড় অংশ প্রবীরের হাতেই থাকে।
এই কাজে তাঁর সঙ্গে দীপিকা ছেত্রী জুটি বেঁধে অর্থ ভাগাভাগি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়া আজও চলছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমাদের সংসারের আয়ের তুলনায় প্রবীরের আয় অনেক বেশি। যেমন, মাত্র তিন মাসেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার বেশি অতিরিক্ত আয়।
আজকাল মনে হয়, ম্যানেজারের ভূমিকায় থেকেও তিনি নিজেকে মালিক ভাবতে শুরু করেছেন। আমাদের কথা মনে করিয়ে দিতে হলে গায়ের জোর দেখানোর প্রবণতাও দেখা যায়। বারবার বলতে থাকেন—“এটা আমার, ওটা আমার, আমি অনেক কিছু করেছি, আমার অনেক চেনাজানা আছে, তাই বুকিং আমি করি।” এই ধরনের কথাবার্তা শুরু হলে তার শেষ থাকে না।
দীপিকা ছেত্রীকে সামনে রেখে নানা রকম জলঘোলা পরিস্থিতিও তৈরি হয়। কখনও তাঁর পরিবারকে নিয়ে দীঘা বা পুরীর মতো সমুদ্র ভ্রমণের গল্প, আবার কখনও বুকিংয়ের টাকায় পাহাড়ে অপচয়, হিসাবের খাতায় টাকা না জমা করে হাতে নগদ অর্থ রেখে লোভে মেতে ওঠার অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে।