29/10/2017
কর্মবাস্ততায় জীবন যেন আরও একঘেয়ে হোয়ে গেছে , বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম দুদিনের ছুটিতে কথাও চলা যাক । প্রস্তাব এলো কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যেতে হবে । গন্তব্য রিশপ । অনলাইনে চেক করে দেখলাম টিকিট নেই ।কিন্ত যাব যখন ঠিক হয়েছে তখন আর আটকায় কে...!!
পরের দিন তৎকাল টিকিট কাটা হল। আমরা ছয় বন্ধু মিলে বেড়িয়ে পরলাম রিশপ এর উদ্দেশ্যে । শিয়ালদা থেকে উত্নবঙ্গ এক্সপ্রেস ধরে পরের দিন সকালে পউছালাম নিউ জলপাইগুরি। স্টেশন থেকে বেরিয়ে গরম চায়ে মুখ দিয়ে ঠিক করে ফেললাম একটা বোলেরো গাড়ী । চালক জানালো যে সে আমাদের তিস্তা বারেজ হয়ে – গরুবাথান হয়ে রিশপ পৌঁছে দেবে। শুরু হল যাত্রা । ব্রেকফাস্ট সারলাম তিস্তা বারেজ এর ধারে এক খাবারের দোকানে। বাড়তি পাওনা এখানে তিস্তার জলে নৌকা ভ্রমন । নদীতে নৌকা ভ্রমন আমাদের যাত্রাকে আরও আনন্দিত করে তুলল । শুরু হলো আমাদের ফটো সেসন।
আবার গাড়ী ছুটতে লাগলো , এ বার গরুবাথান এ লোহার ব্রিজ পাড় কড়ে গাড়ী দাড় করালো এক নেপালি বৌদির দোকানের সামনে । চালক ভুপেন জানালো বৌদি খুব ভালো মোমো বানায় । সবাই খুব ভাল খেলাম । এখানে ও এক পাহাড়ি নদী, স্বছ জল, কোলাহল মুক্ত পরিবেশ , প্রাকিতিক সৌন্দয ভরা। প্রছুর ফটো তুললাম। এর পর আবার যাত্রা শুরু করলাম ।
কিছুদূর যাবার পর শুরু হল ঠাণ্ডা বাতাসের উপস্থিতি, গাড়ী এবার উপরের দিকে উটছে । কিছু সময় এর মধ্যে মেঘ ও রোদের লুকোচুড়ি শুরু হয়ে গেল। অপরুপ প্রাকিতিক সৌন্দয রাস্তার দুপাশ জুড়ে। অবশেষে পাহাড়ি রাস্তা পাড় কড়ে আমরা পউছালাম রিশপ। তবে মেঘ ঢেকে রয়েছে রিশপ জুড়ে। আমাদের কটেজ টা ছিল কাঠের। আসাধারন আনুভুতি মনে, কাঠের বানানো বাড়িতে থাকবো বোলে কথা। দুপুরের খাবার যখন খেলাম তখন বিকাল চারটা। ঠাণ্ডা বাড়ছে। তখন কুয়াশা যেন আরও ঢেকে দিল রিশপ কে। কটেজ থেকে আমাদের জানানো হল যে আগামী কাল যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘা হাতের মুঠোয়। রাতের বেলা যখন ঘুমোতে গেলাম তখন বুকে একরাশ আশা – দেখতে পারবো তো কাঞ্চনজঙ্ঘা...?
ভোঁর তখন সবে হয়েছে, ঘুম ভাঙ্গা মাত্র বাইরে বেরিয়ে দেখি কাঞ্চনজঙ্ঘা আমার সামনে। অপরুপ এই সৌন্দয আমার কাছে স্বর্গ দর্শন এর সমান। ভাষা হারিয়ে গেল। চোখ আটকে থাকলো কাঞ্চনজঙ্ঘা তে । ভগবানের কি আপরুপ সৃষ্টি। প্রচুর ফটো উঠলো এই কাঞ্চনজঙ্ঘা কে নিয়ে। আসাধারান সুন্দর একটা দিন শুরু হল আমাদের। সকাল ৭ টার সময় আমাদের কে একে একে বালতি করে গরম জল দেওয়া হল স্নান করবার জন্য । এবার আমরা হাল্কা ট্রেক করে দেখতে যাব টিফিন দাঁড়া ভিউ পয়েন্ট। গাইড নিয়ে নেওরা ভ্যালি জঙ্গল এর মধ্যে দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হল। এই যাত্রা পথ টা আসাধারন। জঙ্গল এর মধ্যে দিয়ে পুরো পথ। কতরকমের পাখি, তাদের মিষ্টি সুর, অপরুপ প্রাকিতিক সৌন্দয দেখতে দেখতে পউছালাম টিফিন দাঁড়া ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে ১৮০ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেল এ কাঞ্চনজঙ্ঘা কে দু চোখ ভরে দেখলাম । ক্যামেরা বন্দী হয়ে থাকলো পুরো স্মৃতি । নীচে নামতে নামতে দুপুর গরাল। দুপুর এর খাবার খেয়ে পায়ে হেঁটে দর্শন করতে গেলাম শিব-বুদ্ধ মন্দির। যখন ফিরছি তখন পরন্ত বিকাল। সূর্য অস্ত দেখবো বোলে রাস্তার পাশে কাঠের তৈরি বেধিতে বসলাম সকলে। ধীরে ধীরে আস্ত গেল সূর্য। আকাশে তখন রঙ এর ঘনঘটা, বাদ পরেনি কাঞ্চনজঙ্ঘাও । ঠাণ্ডা জাঁকে ধরল আমাদের সকলকে। কটেজ এ পৌঁছে কাম্প ফায়ার করার আনুরধ জানালাম কটেজ এর মালিক কে। তিনি যথারীতি ব্যবস্থা করে দিলেন। গরম চা আর পাকোড়া সঙ্গী হল কাম্প ফায়ার এর সময়। আগামী কাল আমাদের চেক আউট, আসাধারান দুটো দিন কাটালাম রিশপ এ, সাথে না ভোলা স্মৃতি । সকাল ১০ টা টে বেড়িয়ে পরলাম শিলিগুড়ির পথে। সন্ধার ভল্ভ ধরে পরদিন কলকাতা।
রিশপ এ কটেজে যোগাযোগ ঠিকানা ঃ
পানডিম কটেজে
রিশপ ঃ ৭৩৪৩১৯
মোঃ ০৮৩৩৪৮২১০২৩ // 8334821023