Catchy Stories

Catchy Stories All kinds of Stories & News which CATCHES OUR EYES & EARS

৪০  বছর পরেও মৃত্যু রহস্যে ঢাকা! কেন একমাত্র সন্তান নাম উচ্চারণ করেন না মহুয়ার?১৯৮৫-এর ২২ জুলাই। বেঁচে থাকার লড়াই শেষ। ...
24/07/2025

৪০ বছর পরেও মৃত্যু রহস্যে ঢাকা! কেন একমাত্র সন্তান নাম উচ্চারণ করেন না মহুয়ার?

১৯৮৫-এর ২২ জুলাই। বেঁচে থাকার লড়াই শেষ। আগুনে প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শরীর নিথর। টলিউডের বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছিল, মাত্র ২৭-এ প্রতিভা ঝরে গেল। মহুয়া রায়চৌধুরী। মৃত্যুর আগে যাঁর হাতে নাকি ২২টি ছবির কাজ ছিল! সেই সময়ের সংবাদমাধ্যম ঘাঁটলে জানা যায়, ২২টির মধ্যে মাত্র চারটি ছবির কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন। সাতটি অর্ধসমাপ্ত। বাকি ১১টা ছবি সই করেছিলেন শুধু।

সকাল থেকে স্টুডিয়োপাড়া নিস্তব্ধ। মহুয়ার দেহ পৌঁছতেই চত্বরে তাঁর প্রিয় পোষ্যদের ভিড়! কী ভাবে পথকুকুরেরাও বুঝেছিল, তাদের ডেকে খাবার দেওয়ার মালকিন চিরঘুমে আচ্ছন্ন। আর তিনি আদর করে ডাকবেন না। এক পাশে দাঁড়িয়ে শোকস্তব্ধ তাপস পাল, দেবশ্রী রায়। সন্তান হারানোর ব্যথায় মূক পরিচালক তরুণ মজুমদার। তিনি মহুয়ার অভিনয় জীবনের ‘জন্মদাতা’। তাঁর ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ ছবিতে প্রয়াত নায়িকার আত্মপ্রকাশ। তাঁকে নিজের হাতে গড়েছিলেন সন্ধ্যা রায়। মহুয়ার মৃত্যুতে যিনি ভেঙে পড়ে জানিয়েছিলেন, কিছু ক্ষেত্রে অভিনেত্রী বড্ড বেশি ভালমানুষ ছিলেন। ওঁর ভালমানুষির সুযোগ ইন্ডাস্ট্রি নিয়েছে।

আশ্চর্য বিষয়, মহুয়ার মৃত্যুর খবর জানার পরেও টলিউডে শুটিং বন্ধ হয়নি। খবর, সে দিন ‘আশীর্বাদ’ ছবির পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়, প্রযোজক রথীন মজুমদার টানা শুটিং করেছিলেন বিরাটির এক বাগানবাড়িতে। এই ছবির নায়িকা মহুয়া। তাঁর স্মৃতি জীবন্ত থাকতে থাকতেই নাকি দর্শকদের কাছে সে ছবি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা, যাতে বক্স অফিসে ঝড় তোলে ছবিটি!

এই ইঁদুরদৌড়ই কি কেড়ে নিল প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীকে? সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি সে কালের চলচ্চিত্র সাংবাদিকেরা। সেই সময়ের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, মহুয়া মুঠোভর্তি ছবি করলেও তাঁর পারিশ্রমিক নাকি ৩০ হাজারের বেশি ছিল না। অনেক ছবিতে তাঁকে প্রায় বিনা পারিশ্রমিকেও নাকি কাজ করতে হয়েছে! অভিনয় ভালবাসতেন বলে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে পরিচালক-প্রযোজকেরাও তাঁকে নিঙড়ে নিতেন।

পেশাজীবনের এই না-পাওয়ার যন্ত্রণা আরও তীব্র ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েনে। যে তিলক চক্রবর্তীকে তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে তখন সম্পর্ক অবনতির পথে। অশান্তি এক এক দিন এমন আকার নিত যে, স্বামীর মারের দাগ লুকিয়ে নাকি শট দিয়ে হয়েছে মহুয়াকে! সে কথা তিনি বলে ফেলেছিলেন রঞ্জিত মল্লিককে। দৃশ্য অনুযায়ী, শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী রঞ্জিত ক্রাচ দিয়ে মারবেন নায়িকাকে। শট দিতে গিয়ে মারটা একটু জোরেই হয়ে গিয়েছিল। শট শেষে মহুয়ার কাছে দুঃখপ্রকাশ করতেই তিনি বলেছিলেন, ‘‘এর থেকেও বেশি জোরে মার খাওয়ার অভ্যেস আছে রঞ্জিতদা।’’

অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তিলকের সঙ্গে আলাপ মহুয়ার। তিলক গাইতেন। মহুয়া নৃত্যশিল্পী। সদ্য বড় হচ্ছেন দু’জনে। মহুয়া সে দিন শিল্পীর অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে তিলককে ব্যাঙ্কে চাকরি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। চাকরি পাওয়ার পরেই বিয়ে করবেন ঠিক করেন তাঁরা। কিন্তু বেঁকে বসেছিলেন দুই পরিবারের কর্তাই। মহুয়ার বাবার ভয়, ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ হাতছাড়া হয়ে যাবে। ছেলের বাবা নায়িকা বৌমাকে মানবেন না। শেষে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। অন্যতম সাক্ষী রত্না ঘোষাল। বিয়ের উদ্‌যাপন উত্তমকুমারের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে।

দাম্পত্যের প্রথম তিন বছর দারুণ সুখের। সারা ক্ষণ আনন্দে মেঘমুলুকে নবদম্পতি। ওই সময়ে গোলা ওরফে তমাল চক্রবর্তীর জন্ম। ছেলেকে খুব ভালবাসতেন মহুয়া। কিন্তু কাজের কারণে সঙ্গ দিতে পারতেন না। ক্রমশ, স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহ বাড়তে থাকে তিলকের। কারণ, মহুয়াও ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তিনি তখন মদ ধরেছেন। পেটে পানীয় গেলেই উগ্র। তিলককে নিয়ে মাঝরাতে শহরের রাস্তায় বেরিয়ে পড়তেন। চাকুরে স্বামীকে পরের দিন অফিস যেতে হবে, মনেই থাকত না তাঁর! শেষের দিকে তিলক সঙ্গ দিতে না পারলে তিনি নাকি একের পর এক নায়কের বক্ষলগ্না। শোনা যেত, সেই তালিকায় কখনও তাপস পাল, কখনও অমোল পালেকর। এত কিছুর মধ্যেও ক্যামেরার সামনে কিন্তু মহুয়া নিখুঁত অভিনেত্রী।

খবরের কাগজ তোলপাড় মহুয়ার বেসামাল জীবনযাপনের কিস্‌সায়। সেই সব খবর পড়ে আরও বিরক্ত তিলক। সঙ্গে মহুয়ার বাবা নীলাঞ্জন রায়চৌধুরীর কানভাঙানি। তাঁর মদের খরচ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন নায়িকা কন্যা। সেই বিষ ছুঁয়েছিল একমাত্র সন্তান গোলাকেও। গুঞ্জন, বাবা আর দাদু মিলে তাকে বোঝাতে পেরেছিলেন, তার মা কোনও দিক থেকেই ঠিক নয়, বেপথু। একটু একটু করে তাঁরা মায়ের থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন সন্তানকে। শোনা যায়, মৃত্যুশয্যায় ছেলের নাম ধরে বান্ধবী রত্না ঘোষালের কাছে মহুয়ার আর্তি, তাঁর গোলাকে যেন দেখেন তিনি। গোলাও কি মায়ের জন্য একই ভাবে হাহাকার করেছিল? অভিনেত্রীর মৃত্যুর ৩৯ বছর পরে প্রযোজক রানা সরকার মহুয়ার জীবন নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন। পরিচালনায় সোহিনী ভৌমিক। অনুমতি নিতে প্রযোজক দেখা করেছিলেন মহুয়ার ছেলের সঙ্গে। তখনই জানতে পারেন, প্রয়াত নায়িকাকে নিয়ে পরিবারের প্রত্যেকে এতটাই বীতশ্রদ্ধ যে, ভুলেও তাঁরা মহুয়া রায়চৌধুরীর নাম মুখেও আনেন না!

তাঁকে নিয়ে গুঞ্জনের আঁচ মহুয়ার কানেও পৌঁছত। তিনি বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, যতটা রটেছে ততটাও ঘটেনি। তিনি বদমেজাজি নন। কাজে ফাঁকি দেননি কখনও। কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি। কোনও নায়ককে অকারণ বিরক্ত করতেন না। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি বলে, তৎকালীন নায়িকাদের মধ্যে তিনি বেপরোয়া, একরোখা, ঠোঁটকাটা, জেদি এবং দুঃসাহসী। তার ছাপ পড়েছিল ব্যক্তিজীবনেও।

কেন এমন হয়ে গিয়েছিলেন পর্দার ‘পারাবত প্রিয়া’? সেই সময়ের ছায়াছবির ইতিহাস বলছে, মহুয়া বিব্রত ছিলেন নিজের জন্মবৃত্তান্ত নিয়েও। কথিত, নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী নাকি তাঁর পালক পিতা। দুই বোন আর এক ভাই তাঁরা। দিদি শান্তা, বোন শিপ্রা। শিপ্রাই পরে মহুয়া। দাদা পিনাকী বরাবর নেপথ্যে। এঁরা মহুয়ার নিজের ভাই-বোন? আজও অজানা। মেধাবী মহুয়া কোনও দিন নাকি স্কুলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি। সেই তিনিই স্কুলের শেষ পরীক্ষা দেওয়ার আগে পড়া ছেড়ে অভিনয়ে। বাবার নির্দেশে। ছোট থেকেই নাচের অনুষ্ঠান করতেন। অর্থাৎ, ‘শৈশব’ বলে কিছুই ছিল না তাঁর। মহুয়া যেন তাঁর বাবার অর্থ উপার্জনের যন্ত্র!

এমনও দিন গিয়েছে, তিন শিফটে শুটিং করে বাড়ি ফিরে দেখেছেন, বাবা নেশায় চুর। তাঁর জন্য রান্না নেই, খাবার নেই। উল্টে তিনি ক্লান্ত মেয়েকে ভালমন্দ রান্নার হুকুম করেছেন। দিনের পর দিন অত্যাচারে, অবিচারে জর্জরিত মহুয়া তাই সম্ভবত পরবর্তী সময়ে বেপরোয়া, বিদ্রোহী। জোর করে দামি গাড়ি কিনেছেন রাতবিরেতে ইচ্ছেমতো হাওয়া খেতে বেরোতে পারবেন বলে। ওই সময় থেকেই তিনি আত্মহত্যাপ্রবণ। শোনা গিয়েছে, বাবা বিয়েতে বাধা দেওয়ায় অভিমানী মেয়ে গলায় দড়ি দিতে গিয়েছিলেন। যত বার তিলকের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে, তত বার তিনি হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করতে গিয়েছেন। শেষে জ্বালা ভুলতে দিনরাত নেশায় ডুব দিতেন।

অভিনয় দক্ষতা যত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, ততই ভিতরে ভিতরে নাকি ফুরিয়ে যাচ্ছিলেন মাত্র ২৭-এর মেয়েটি। চোখমুখে ক্লান্তি, অত্যাচারের ছাপ। তিলককে ছাড়তেও পারেন না, ভুলতেও পারেন না! উল্টে সব পুরুষের মধ্যে কেবল তাঁকেই খোঁজেন। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার দিন মহুয়ার সকাল শুরু মদ্যপান দিয়ে। খবর, রত্না ঘোষালের বাড়িতে গিয়ে মদ্যপান করতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর বাড়িতে পানীয় ছিল না। মহুয়া পানীয় আনিয়ে পান করেন। সেখান থেকে যান প্রয়াত পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর বাড়িতে। সেখানেও পানাহার চলে। এ-ও জানা যায়, অঞ্জনের বেহালার বাড়ির এক তলাতেই নাকি মহুয়া-তিলকের সংসার। এর পর নীচে নিজের বাড়িতে নেমে আসেন তিনি। মহুয়া তখন সম্পূর্ণ বেসামাল!

মহুয়া অগ্নিদগ্ধ, খবর ছড়াতেই নানা প্রশ্ন উঠে এসেছিল টলি-মহল্লায়। তখন কি তিনি গায়ে আগুন দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন? তিলক নাকি জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, ছেলের দুধ গরম করতে বসেছিলেন মহুয়া। স্টোভ থেকে আগুন ধরে যায়। তা-ই যদি হবে, তা হলে পিছন থেকে গায়ে আগুন লাগল কী করে? সকাল থেকে যিনি মদ্যপান করেছেন, তিনি রান্না করতে কতটা সক্ষম? বেসামাল মহুয়াকে কেন পরিবারের কেউ আগুনের কাছে যেতে নিষেধ করেননি? মহুয়ার বাবা, স্বামী— কেউই তাঁর উপরে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এই মৃত্যু কি তারই ফলাফল? রটেছিল, নীলাঞ্জনের লোভের আওতা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন মহুয়া। তিলকের শাসনের বাইরেও। ফলে, মহুয়া নাকি ক্রমশ তাঁদের অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছিলেন।

প্রমাণের অভাবে পুলিশি তদন্ত এক সময় থেমে গিয়েছে। ৪০ বছর পরেও তাই মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যু রহস্যাবৃত। ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যুদিনটি ছিল সোমবার। প্রকৃতি কেঁদেছিল তাঁর জন্য। আকাশের বুক চিরে বৃষ্টি হয়েছিল। এক প্রতিভার অকালমৃত্যুতে আক্ষেপ করেছিল টলি-পাড়া। তাঁর মৃত্যুর পর একটা সংলাপ কানে বেজেছিল মহুয়া-ঘনিষ্ঠদের। বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের ছবি ‘আশীর্বাদ’-এ নায়িকার মুখে “আশিস, আমি ভাল নেই” সংলাপ শুনে তৎকালীন টলিউডের বহু গণ্যমান্যের দাবি, ছবির মধ্যে দিয়েই যেন নিজের পরিস্থিতি জানিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সিনেবোদ্ধাদের দাবি, মহুয়ার এক সত্তা নাকি চেয়েছিল যশ-অর্থ-খ্যাতি-প্রতিপত্তিতে মোড়া ভোগসর্বস্ব জীবন। আর তাঁর ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ সত্তার নাকি চাওয়া ছিল, ‘চাই না কারও দয়া, যাচি প্রিয়র আঁখিজল, একটু দুঃখে অভিমানে নয়ন টলমল’...!
সংগৃহীত
(আনন্দবাজারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে।)

😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁
22/07/2025

😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁

22/07/2025

গতকাল শ্রাবণের প্রথম সোমবার

ওঁ নমঃ শিবায় Om Namah Shivaya

15/07/2025

শালা এটাও ভুল জানতাম!!! গোটা জীবনটাই ভুলে ভরা!!! ভেরি ভেরি শ্যাড লাইফ 🥱😔😫😴
17/06/2025

শালা এটাও ভুল জানতাম!!! গোটা জীবনটাই ভুলে ভরা!!! ভেরি ভেরি শ্যাড লাইফ 🥱😔😫😴

🤣😂🤣😂🤣😂🤣😂🤣😂🤣🤣😂🤣😂
07/06/2025

🤣😂🤣😂🤣😂🤣😂🤣😂🤣🤣😂🤣😂

ডক্টর সুমিত রায়। বিখ্যাত অভিনেতা বিকাশ রায়ের ছেলে। যিনি মোবাইলের প্রথম ডিজাইনার এবং আবিষ্কর্তা। আই এস সিতে তিনি নবম হয...
07/06/2025

ডক্টর সুমিত রায়। বিখ্যাত অভিনেতা বিকাশ রায়ের ছেলে। যিনি মোবাইলের প্রথম ডিজাইনার এবং আবিষ্কর্তা। আই এস সিতে তিনি নবম হয়েছিলেন। এর পর শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রবেশ পরীক্ষায় প্রথম। তার পর থেকে আর কখনও দ্বিতীয় হননি।বিদেশে ইউনিভার্সিটির সব পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেয়ে ডক্টরেট পান। আমেরিকার জগৎ বিখ্যাত বেল টেকনিক্যাল ল্যাবরেটরির একজন প্রথম সারির কারিগরী বিজ্ঞানী হয়েও, বহু বছর আমেরিকার নিউজার্সিতে থেকেও, বাংলা ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতের ছিলেন একজন গুনমুগ্ধ পৃষ্ঠপোষক।
দীর্ঘদিন ফুসফুসে ক্যান্সারে ভুগে ৮১ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন।

প্রচারবিমুখ কৃতি বাঙালি।
লহ প্রনাম 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

মেয়েটি'র ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে 2018 সালে। ডক্টর'রা জানান যে তার ডানদিকের স্তনটি শরীর থেকে কেটে বাদ দিতে হবে। অন্যদিক...
27/05/2025

মেয়েটি'র ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে 2018 সালে। ডক্টর'রা জানান যে তার ডানদিকের স্তনটি শরীর থেকে কেটে বাদ দিতে হবে। অন্যদিকে ছেলেটি তখন বলিউডের সদ্য উঠতি অভিনেতা। সেদিন স্ত্রী তাহিরার বায়োপ্সি রিপোর্ট যখন আয়ুষ্মানের হাতে এসে পৌঁছায় ততক্ষণে যেন তার দীর্ঘ বারো বছরে তিলে তিলে সাজানো জীবনটা এক লহমায় ধূলিস্যাৎ হয়ে পড়েছে। কেরিয়ারের চূড়ান্ত সময়ে দাঁড়িয়ে থেকেও মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল নিজের যাবতীয় কাজ থেকে সরে আসার। তাহিরা'কে এডমিট করার পর পাক্কা সাত দিন হসপিটালে একপ্রকার না ঘুমিয়েই কেটে গেছিল তার।

"ডক্টর, তাহিরা আমার কাছে আমার স্বপ্নের মতো। আর আমার স্বপ্নকে ছাড়া এই জীবনে আমার পক্ষে একটা পা'ও চলা সম্ভব না। আপনি দয়া করে ওর কোনো ক্ষতি হতে দেবেন না..." - সার্জারি রুমের ঢোকার আগে ডক্টর নীতেশ সেহগল-কে স্রেফ এইটুকু অনুরোধ করেছিল ছেলেটি। দীর্ঘ বারো ঘন্টার সার্জারি'র পর যখন কেবিনে গিয়ে তাহিরার সামনে সে দাঁড়ায় ততক্ষণে তার দু'চোখ ভর্তি জল। নাকে মুখে নল গোঁজা, বিছানায় শুয়ে থাকা তাহিরাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, "ধন্যবাদ। আমার স্বপ্নকে আবার আমার বুকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে..."
..প্রতি বছর বিশ্ব ক্যানসার দিবসে কিছু না কিছু লিখেই থাকেন অভিনেতা। এ বছর তাহিরের সঙ্গে তাঁর প্রেমের শুরুটা কী ভাবে, সেটা জানালেন। অস্ত্রোপচারের পরে তাহিরার ছবি দিয়ে অভিনেতা লেখেন, ‘‘পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ নম্বর কুঁড়েঘরে চা-শিঙাড়া খাইয়েই প্রেমে ফেলেছিলাম। তোমার হৃদয়ের প্রেমে বার বার পড়ি আমি।’’ একসঙ্গে পড়াশোনা তার পর রেডিয়োতে চাকরি। ২০০৮ সালে ঘর বাঁধেন তাহিরা-আয়ুষ্মান। দুই সন্তানের বাবা-মা তাঁরা। এত বছর কেটে গিয়েছে, তবে প্রেম যেন একই রয়ে গিয়েছে তাঁদে

আজ তাহিরা সম্পূর্ণভাবে সুস্থ। আর তার সেই প্রেমিক! তার সেই ক্লাস টুয়েলভের প্রেমিক আজ দাঁড়িয়ে রয়েছে খ্যাতির শিখরে। মাত্র আট বছরে একের পর এক সুপারহিট মুভি, একাধিক স্টিরিওটাইপ ভেঙে দেওয়ার মতো চরিত্র, একটি ন্যাশনাল ফিল্ম এওয়ার্ড, চারটি ফিল্মফেয়ার এবং প্রায় পঁচিশটি জাতীয় স্তরের বিভিন্ন এওয়ার্ডজয়ী ছেলেটি আজ বলিউডের অন্যতম বিখ্যাত ইয়ং এজ সুপারস্টার। যে কিনা গত আট বছরে নিজের স্ত্রী'র সাথে মিলে সাহায্য করেছে প্রায় দু'শো ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলা এবং পাঁচশো'রও অধিক পথশিশুকে, রাস্তা থেকে তুলে এনে শিশুদের ভর্তি করেছে স্কুলে, হাতে তুলে নিয়েছে তাদের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব।
শুধুমাত্র নিজের চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে নির্বাচিত হয়েছে ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার গ্লোবাল সেলিব্রিটি এডভোকেট। আজও যাবতীয় প্রচারের আড়ালে থেকে প্রত্যেকদিন মুম্বাইয়ের কয়েক'শ পথ শিশুর পেটের ভাত যুগিয়ে চলেছে যে ছেলেটি।

সংগৃহীত

10/05/2025

প্লেনে উঠেছি, দিল্লি যাচ্ছি, প্রায় ছ’ঘন্টার রাস্তা। ভেবেছিলাম—চুপচাপ বসে বই পড়ব একটু, আর মাঝপথে একটুখানি চোখও বুজব।

ঠিক টেকঅফের আগে দেখি প্লেনের দরজা খোলান হল আর একদল ভারতীয় জওয়ান উঠে এল—দশজন মতো। আমার চারপাশের সিটগুলোয় বসে পড়ল একে একে। মুখগুলো কেমন শান্ত, গম্ভীর।
পাশে বসা এক জওয়ানকে জিগ্যেস করলাম, “কোথায় যাচ্ছেন আপনারা...!”

সে বলল, “আগ্রা। দু’সপ্তাহ ট্রেনিং আছে, তারপর অপারেশন।”

এইটুকু বলেই চুপ। কী অপারেশন, কোথায়, কিছুই বলল না। বুঝলাম, বলার পারমিশন নেই..!

প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, অ্যানাউন্সমেন্ট করলেন এয়ারহোস্টেস.... আপনাদের লাঞ্চ সার্ভ করা হবে, যারা চাইবেন, পয়সা দিয়ে লাঞ্চ কিনে নিতে পারেন।

মানিব্যাগে বের করছি, এমন সময় শুনি ওই জওয়ানদের নিজেদের মধ্যে কথা—

“খাবি?”
“ধুর, এখানে দাম বেশি। নিচে নেমে হোটেলে খাব।”

কী যেন হয়ে গেল ভেতরে। চুপচাপ উঠে গিয়ে এয়ারহোস্টেসকে বললাম, “ওদের সবার খাবার আমিই নিচ্ছি। প্লিজ দিয়ে দিন।”

মেয়েটার চোখে জল চলে এল। ফিসফিস করে বলল, “স্যার, আমার ভাই কার্গিলে। মনে হচ্ছে আপনি ভাইকেই খাওয়াচ্ছেন...!”

মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। সিটে ফিরে এলাম, আধ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ওদের সবার হাতে খাবার পৌঁছে গেল।কিছুটা অবাক হলেন ওনারা... কি ভাবলেন জানিনা... খাবার বাক্স খুলে খেত শুরু করলেন। দেখে বোঝা যাচ্ছিল ক্ষুধার্ত..!

আমি নিজের লাঞ্চ শেষ করে টয়লেটের দিকে যাচ্ছি, হঠাৎ এক বৃদ্ধ এগিয়ে এলেন।
বললেন, “সব দেখেছি। আপনি সত্যি ভালমানুষ, স্যার।”
তারপর হাতে এক ৫০০ টাকার নোট গুঁজে দিয়ে বললেন, “এই ভালো কাজের একটা অংশ আমিও হতে চাই...!" আমি কিছু বলতে পারার আগেই নিজের সীটে ফিরে গেলেন ভদ্রলোক!

ফিরে এসে ভাবছি এসব কী হচ্ছে.... দেখি—পাইলট নিজে সিটে চলে এলেন! সীটবেল্ট খুলে উঠে দাঁড়ালাম। হেসে বললেন, “আপনার সঙ্গে হাত মেলাতে চাই।”
আমি অবাক। বললাম, “কেন স্যার?”
তিনি বললেন, “আমি নিজে একদিন ফাইটার পাইলট ছিলাম। সেদিন এক অচেনা মানুষ আমার জন্য খাবার কিনে দিয়েছিলেন। আজ আপনি সেই মুহূর্তটা ফিরিয়ে দিলেন.... আমি শুনেছি কেবিন ক্রুর কাছ থেকে..!"

হঠাৎ করে চারপাশে হাততালি পড়ে গেল। আমি একটু লজ্জা পেলাম। কারণ, আদতে কিছুই করিনি। মন চেয়েছিল, তাই করেছিলাম.... হাততালির জন্যে তো করিনি কিছুই...!

কিছুক্ষণ পর, এক আঠারো বছরের মতো ছেলে হেসে এগিয়ে এল। হাত মেলাল, তারপর একটুকরো কাগজ গুঁজে দিল হাতে। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম..!

বিমান নামল।
মাল নামাচ্ছি, এমন সময় এক ভদ্রলোক চুপচাপ আমার পকেটে কিছু একটা ঢুকিয়ে দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে চলে গেলেন। আরও একটা নোট।
লাগেজ বেল্টের কাছে দেখলাম ঐ দশজন সৈনিক দাঁড়িয়ে আছে, লাগেজের অপেক্ষায়। দৌড়ে গেলাম ওদের কাছে... বললাম, “এই টাকাগুলো রাখুন। এগুলো কিছু দেশবাসীর ভালবাসা.... ট্রেনিংয়ে যাওয়ার আগে কিছু দরকার হলে খরচ করুন।
আপনারা আমাদের জন্য যা করেন, এই সামান্য টাকা দিয়ে তার দাম চোকানো যায় না। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি শুধু।”

ওরা চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। কারও চোখে জল, কেউ হাসছিল। এক ফ্লাইট দেশবাসীর ভালবাসা নিয়ে ওরা এবার এগিয়ে যাবে...!!

গাড়িতে উঠলাম।
চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করলাম.... “ভগবান, এদের যেন ভালো রেখো....এরা তো প্রাণ হাতে করে মৃত্যুর দিকে হেঁটে যায় দেশের জন্য।”

একজন জওয়ান মানে, যেন দেশের নামে লিখে দেওয়া এক খালি চেক..... যখন চাইবে তাই দিয়ে দেশের নামে জীবন অবধি তুলে নিতে পারবে দেশবাসী....
যেটা ওরা জীবন দিয়েও পূরণ করতে রাজি।

আর আমাদের অনেকেই সেটা বুঝতেই চায় না।

-- সংগৃহীত

এই গল্পটা শেয়ার করবেন কি না সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আমি জানি, যতবার পড়বেন—চোখটা ভিজে যাবে।

"জয় হিন্দ"

07/05/2025

“Go and tell Modi”
- PM Modi Listened 🇮🇳

Families of men & women on the frontlines, in cockpits, on ships, drone control rooms and forward stations, a nation can never thank you enough.

We stand with our forces and with you all AS ALWAYS 🇮🇳

12/04/2025

Address

New Digha
Midnapur
721428

Telephone

+918617773764

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Catchy Stories posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Catchy Stories:

Share