15/05/2017
ধরেন আপনি ফেসবুকে লিখলেন,প্রধানমন্ত্রী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে জনগণকে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছেন। এই পর্যায়ে, "কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং ঘটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বলে পোস্ট দেয়ায় জনৈক গ্রেফতার " শিরোনামে পরেরদিন ফেসবুক নিউজফিডের হিরো বনে গেলেন আপনি , অথচ আপনার জীবনে সাইক্লোন। এটা হলো তথ্য প্রযুক্তি আইন এবং অপব্যবহার।
তারপর ধরেন,সন্ধ্যায় পকেটে কুরআন নিয়ে ধর্মঘটের দিন হেঁটে আসছেন, আপনাকে বড়ো রাস্তার মোড়ে থামিয়ে, "দাড়িসহ ইসলামী উগ্রপন্হী গ্রেফতার" খবরের নিউজ হয়ে যেতে হলো আশ্চর্য্যজনক ব্যাখার অতীত কোন এক অকারণে। এ হলো একরকম ব্যক্তি অধিকার হরণ নিয়ম। এবং অনিরাপত্তা।
আবার ধরেন, মন্দিরে আক্রমণ, সেও অধিকার লঙ্ঘন।
শিক্ষাঙ্গন নিয়ে আপনার কিছু বলার ইচ্ছা,দুইটা দাবী ছিল, প্রশ্ন কেন ফাঁস বলে গণভবনের সামনে জড়ো হয়েছেন,ধর্ষকের কঠিন শাস্তি চাই বলে শহীদ মিনারে বসেছেন, পিঠে পুলিশের লাঠির চিহ্ন আর ধস্তাধস্তির ফলে ছিঁড়ে যাওয়া কাপড় নিয়ে ঘরে ফিরে আসলেন, এইগুলোও হলো নাগরিক অধিকার হরণ।
মোটা দাগে এ হলো ফ্যাসিবাদ। উই হ্যাভ বিন সাফারিং সিন্স লাস্ট ফিউ ইয়ারস।
প্রতিরক্ষা চুক্তি চাইনা বলে রাস্তায় গেলেন,হঠাৎ গুলি খেয়ে আপনার পাশের বন্ধু লুটিয়ে পড়লো রাস্তায়, বিরোধীদল করতো বেচারা। এইগুলিও।
এসব ঘটছে তো, ঘটছেনা? এখন গত কয়েকবছরে বারবার, অসংখ্যবার।
তো বিএনপি এইবারের ভিশন 2030 তে এইসব অমর্যাদা দূর , অধিকার সুরক্ষা করার প্রয়াসের কথা ব্যক্ত করেছে।
ব্যক্তিগতভাবে নানান রাজনৈতিক দলের একঘেঁয়ে প্রতিশ্রুতি আমার অপছন্দ। কিন্তু, বেগম জিয়ার স্পেসিফিকেশন আমার পছন্দ হয়েছে। মনোযোগ দিয়ে পড়তে চেষ্টা করলাম।
স্পষ্ট করেই তিনি অনেক কথা বলেছেন।
বলেছেন ওই মত প্রকাশের স্বাধীনতা,নাগরিক সাধারণ ওইসব অধিকার, কিছু বলবার, কিছু করবার, সুসংগত, সুসংহত। ওয়ান ডে ডেমোক্রেসি এড়ানো, জনগণের দৈনন্দিন চাওয়পাওয়ার গুরুত্বের কথা। গণভোট, জনমত জরিপ এবং বিশেষভাবে নানান মতামতের প্রতি সম্মানের কথাও বলেছেন সুনির্দিষ্ট করে ।
সংসদে উচ্চকক্ষ, এটাও আমাদের মতো দেশের জন্য দরকারী । তাহলে জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যাচাইয়ের একটা সুযোগ থাকে। একজনের হাতে ক্ষমতা আর পুতুল সংসদের রিএরেইঞ্জমেন্ট, এটা জরুরি বিষয়। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ আমাদের সরকারের সর্বপ্রথম নির্ণয় হওয়া দরকার। তিনি বলেছেন। বিষয়টার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
রাজনৈতিক, সামাজিক বিভাজন অবসানের কথাটা কেউ একজন বলেছেন, এটাও বিশাল ব্যাপার। সাধারণত রাজনৈতিক চরিত্ররা এই চিন্তা মাথাতেই রাখেননা। সম্ভবত সাম্প্রতিক নানান চাপ এবং জনগনের সমর্থনের প্রতি একধরণের কৃতজ্ঞতা বিএনপি বোধ করেছে বলে এইরকম সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে পেরেছে। এটাও একরকম মূল্যায়ন। সচরাচর রাজনীতিবিদরা যেটা করেননা। একে রিভোল্যুশনারি দেখবো, আশায় থাকলাম।
এই বিএনপি একসময় প্রয়োজনে নিজদলীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম ডিসিশন দিয়েছে। অতএব, আবারো নিপীড়নের বিপক্ষে সেরকম কাজগুলি আশা করাই যায়।
বর্তমানে ঐক্যটা, ইজ আ মাস্ট। এরকম বিভেদ দেশে আগে কখনো ছিলোনা। বিএনপি এ নিয়ে ধৈর্য্যসহকারে কিছু করবে বলছে,আই সাপোর্ট দিস। আমি আমার বন্ধু ফেরত চাই।
রাষ্ট্রের নানা ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা তারা নিশ্চিত করবার চেষ্টা করবে বলে বিশ্বাস রাখছি। নইলে উপায় নেই। বর্তমান অবস্থায় নিজেদের অন্ধকার দীপান্তরবাসী ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত, যেখানে আলোবাতাস, শব্দ, ইনফরমেশন,সাহায্য কিচ্ছু পৌঁছায়না।
বিচারবিভ্রাটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যে আগ্রহ তিনি প্রকাশ করেছেন, সাধুবাদ জানাই তাকেও। আর বিচারভাগের স্বাধীনতা। বোধ করি, বিরোধীদল নিজেরাই এবার তীব্র সমস্যা ফেইস করেছে এসব নিয়ে, অতএব সকলের স্বার্থে তারা এ নিয়ে আন্তরিক হবেন, আশা, যেমনটা বলেছেন বেগম জিয়া।
আর তিনি যখন বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি তিনি করবেননা, আমি বিশ্বাস করেছি। এতো বছরে এতো জঘন্য নোংরামির এতটুকু কোন নোংরা পাল্টা জবাব তিনি কোনদিন দেননি, তাকে অবিশ্বাস করার কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
চাকরিক্ষেত্রে একটা সামঞ্জস্য দরকার। মানুষ রোবট নয়। পুলিশও না। তাদের জন্য একটা সুচিন্তিত পরিকল্পনার কথা তিনি বলেছেন, সাধুবাদযোগ্য।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নতুন করে কাজ করার প্রত্যয়, প্রশংসনীয়। যাদের আত্মত্যাগের ফল এই দেশ, তাদের নিয়ে রাজনীতির বাইরেও কিছু কাজ হোক সত্যিকারের।
বেগম জিয়া সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন, তার সময়েই বাংলা ভাই নিধন হয়েছিল সফলভাবে, কোন বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত বিএনপি কাজগুলো ঠিকঠাক করবে বলেও বিশ্বাস রাখি।
সামাজিক নিরাপত্তাবেস্টনী, জনমিতিক লভ্যাংশ কিছু পুরনো চিন্তা নিয়ে অধিকতর নতুন আইডিয়া, লাইকড দিস!
শিক্ষাখাতে ব্যয় ও মনোযোগ বৃদ্ধি , খুব খুব খুব প্রয়োজনীয়। নানান মাধ্যমের যথাযথ ভ্যালুয়েশন এ ক্ষেত্রটিকে সমৃদ্ধ করবে, একইসঙ্গে কর্মজীবী সুষম সমাজ গঠনে সাহায্য করবে। সারাপৃথিবী তথ্য, প্রযুক্তির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে বর্তমানে, আশা করি ব্যক্ত নতুন অবকাঠামোগুলোর ঠিকঠাক প্রতিফলন আমাদেরও একটা খুব সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাতে পারবে।
যদিও ডাক্তার বেচারাদের জন্য তেমন কোন ঘোষণা নাই, রোবটিক স্যাড, ফ্রাস্ট্রেটেড লাইফ নিয়েও খুশির কথা এই যে, স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আলাদা করে ভেবেছেন তিনি। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য চিকিৎসক আর মাথাপিছু চিকিৎসক এক নয়, এ কথা যারা বোঝেনা, তাদের জন্য বলে সময় নষ্ট করার ইচ্ছে নেই, তবে জনগণের স্বার্থে বীমা,হসপীস, রেফারেল সিস্টেম, ঋণে হসপিটাল নির্মাণ, মনিটরিং, এবং মেডিকেল শিক্ষার যে মানোন্নয়নের কথা তিনি বলেছেন, তাতে খুশিই হয়েছি। কারণ সরকার যখন জনগণকে যথাযথ সাপোর্ট দেবে, তখনি জনগণের বুঝতে সহজ হবে ডাক্তার কি ছিল, কে ছিল; পারষ্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে ধীরে ধীরে। :)
ডে কেয়ার সেন্টার, স্বপ্ন একটা। হোক হোক। মায়ের আঁচলে থাকুক সারাদিন শিশু।
জলবায়ুজনিত তীব্র ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ,ঘাড় নিচু করে সমস্ত দুহাতে উড়িয়ে দিচ্ছি পরের জন্য, বন্ধুর জন্য, এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। এ নিয়েও বলেছেন তিনি। ভালো লেগেছে। আরো আশান্বিত হয়েছি নদীমাতৃক দেশটির আগের মতো একটা চেহারা দেখবো বলে। নদীরা ফিরুক ঘরে। আবার স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করছি।
পর্যটন নিয়ে নানান আকাঙ্ক্ষার কথা তিনি ব্যক্ত করেছেন, যা কিনা আমাদের অর্থনীতি থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে পরিচিতি এবং একটা অবস্থান তৈরির জন্য আবশ্যিক একটা বিষয়। এতো সম্পদ দিয়েছেন বিধাতা, কোন সরকারের এ নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই, এরকম একটা আক্ষেপ সবসময় ছিল, এইবার কিছু একটা হলে প্রশান্তি। অহংকার।
আরো যা যা বেগম জিয়া বলেছেন তার/তাদের ভিশনে, সকল কিছু নিয়ে আলোচনা না সম্ভব এখানে, না সামর্থ্য আছে আমার।
তাই ইনোভেটিভ,নতুন,অবশ্যপ্রয়োজনীয়,
নিত্যদিনের এবং আমার পক্ষে সম্ভব বলা, তা নিয়ে লিখতে ইচ্ছা হলো ভাবনাগুলো।
দীর্ঘ বিরক্তিকর লেখা। ক্ষমা করতেই হবে। 😄